জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে সরকার যে কঠোর বিধিনিষেধের নির্দেশ দিয়েছে, তা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এ-বিষয়ক জাতীয় কমিটি তার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জেনেছি। যদি দুই সপ্তাহ এমন পরিস্থিতি পুরো দেশে না করা হয়, তাহলে লকডাউনে কি পরিবর্তন এল, সেটা বোঝা যাবে না।
আমরা পরে না আগে লকডাউন দিয়েছি, সে আলোচনায় যাওয়া দরকার নেই। কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে মার্চ কিংবা এপ্রিল মাস থেকে কঠোর হওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। বাস্তবতা অনুযায়ী তো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চীনের উহানে একটানা আড়াই মাস সবকিছু বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের দেশে তো সবার খাওয়া–পরা নিশ্চিত করা সম্ভব না। তাই একটানা বেশি দিন জীবন-জীবিকা আটকে রাখাও সম্ভব হয় না।
নাগরিকের সব চাহিদা পূরণ করতে যেহেতু এখনো আমাদের মতো দেশগুলো পুরো সক্ষম হয়নি। তাই এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রেরও কিছু বিষয়ে আপস করতে হয়। নাগরিকদের কিছু দায়িত্ব আছে, সেটা সবাই পালন করলে আমাদের সংক্রমণ এত ছড়াত না।
ঈদুল আজহায় যদি নিয়ম মেনে মানুষ বাড়ি না যায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে। মানুষকে আটকে রাখা সম্ভব নয়। সবাই শহরে এসে রোজগার করে গ্রামে যায় পরিবারের সঙ্গে আনন্দ, উৎসব করবে বলে। তাঁদের তো আটকে রাখা যাবে না। তাঁদের খরচও বেশি হবে। আর যদি যেতেই হয়, তাহলে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ঈদে বাড়ি যাওয়া-আসা করতে হবে। গণপরিবহনে প্রতিবারই বলা হয়, সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতায়াত করবেন, সেটা এবার আরও ভালোভাবে মানতে হবে।
আমাদের টিকা দেওয়ায় মনোযোগী হওয়া উচিত। সবাইকে দ্রুত টিকার আওতায় আনতে হবে। করোনায় আক্রান্ত সবাইকে দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। ওই পরিবারের সবাইকে আইসোলেশনে নিতে হবে।
ডা. মুশতাক হোসেন, উপদেষ্টা, আইইডিসিআর