হোম > জাতীয়

বিশ্বের দরবারে দেশের মর্যাদা নিশ্চিত করছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

চীনের দালিয়ানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিনের প্রেস কনফারেন্স। ছবি: পিএমও

সমতা, ন্যায্যতা ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে কার্যকরভাবে ধারণ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বের দরবারে দেশের মর্যাদা, সম্মান ও দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করছেন। এর মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একটি মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্রনেতার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাচ্ছেন।

আজ মঙ্গলবার চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘সামার দাভোস ২০২৬’ সম্মেলন চলাকালে এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

সফল মালয়েশিয়া সফর শেষে গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা পদমর্যাদার আটজনসহ ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে চীন সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করে নেয়। পুরো রাস্তা রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও পুলিশি প্রহরার মাধ্যমে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও সম্মাননার জন্য চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান মুখপাত্র।

‘ইনোভেশন স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের সামার দাভোস সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, শীর্ষ ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্ভাবক ও করপোরেট নেতারা অংশ নিয়েছেন। সরকারপ্রধান হিসেবে দেশের বাইরে এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম কোনো বৈশ্বিক সম্মেলন।

মাহদী আমিন জানান, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মূল লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশে অধিকতর বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত করা। একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে ‘বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’—এই জোরালো বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া।

দাভোস সম্মেলনের ফাঁকে আজ ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট এবং সিইও আলোইস জুইংগি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের মানুষের অগ্রযাত্রার রোডম্যাপ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয় এবং ফোরামের পক্ষ থেকে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।

এরপর আজ সন্ধ্যায় (স্থানীয় সময়) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন আ শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক সেশনে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন তিনি।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরের জন্য বেশ কিছু মেগা লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেন।

নদী ও খাল খনন: আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে।

পানি ব্যবস্থাপনা: পদ্মা ও তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনার আমূল উন্নয়ন করা হবে।

বৃক্ষরোপণ: দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে।

সবুজ শিল্প ও জ্বালানি: সবুজ শিল্পের বিকাশে পাটশিল্প ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) চালু করা হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

সেশনে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ‘জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়; এটি আমাদের সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য বিনিয়োগ।’ একই সঙ্গে তিনি ক্ষয়ক্ষতি তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং প্রশমন ও অভিযোজন কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।

এদিকে আজ রাতে চীনের প্রধানমন্ত্রী (প্রিমিয়ার) লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে একটি বিশেষ নৈশভোজে সস্ত্রীক অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই রাষ্ট্রীয় ভোজে স্বাগতিক চীন ও বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া, গিনি, মন্টিনিগ্রো, কাজাখস্তানসহ মোট সাতটি দেশের সরকারপ্রধানেরা একসঙ্গে অংশ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে উন্মুক্ত আলাপচারিতার এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছে বলে জানান মাহদী আমিন।

আগামীকাল সকালে ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’ অধিবেশনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বেলা ২টায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের উদ্দেশে চীনের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে হাইস্পিড ট্রেনের মাধ্যমে দালিয়ান থেকে রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা।

মুখপাত্র মাহদী আমিন আশা প্রকাশ করেন, দালিয়ানের এই সফল অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য যেমন নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি বেইজিংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলো দেশের জাতীয় সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

প্রসঙ্গত, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে বেইজিংয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৫৫ মিনিট) দালিয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। চার দিনের এই সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

জুয়া ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সংসদে বিল

সংসদে জুলাই হত্যার বিচার চাইলেন শহীদ জাবিরের মা এমপি রোকেয়া বেগম

৩১ চা-বাগান ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

ভূমিকম্প মোকাবিলায় ঢাকায় ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত

গত অর্থবছরে ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে: সংসদে মন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধে টাস্কফোর্স গঠন, সভাপতি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যেই বর্তমান বাজেট: চিফ হুইপ

জামায়াত-সমর্থক ৭ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, ১১ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ

শেখ হাসিনাকে এনে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার দাবি রেহানার

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীন সফরে যুক্ত হচ্ছেন আরও দুই মন্ত্রী