ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসার ‘স্বার্থবিরোধী’ উল্লেখ করে ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ২০২৬ বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন এই খাতের শীর্ষ নেতা ও ব্যবসায়ীরা। তাঁরা এটিকে ‘কালো অধ্যাদেশ’ অভিহিত দিয়ে বলেছেন, এটি কার্যকর হলে দেশে প্রায় ৫ হাজার ট্রাভেল এজেন্সি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ রোববার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আশঙ্কার কথা জানান অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সাবেক সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মাহবুব।
মনজুর মোর্শেদ মাহবুব বলেন, গত বৃহস্পতিবার ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সংযোজিত একাধিক ধারা, উপধারা ও দফা ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসাকে কার্যত অচল করে দেবে।
সংবাদ সম্মেলনে মনজুর মোর্শেদ জানান, ২০১৩ সালে ৬১ নম্বর আইনের ধারা ৪-এর উপধারা (খ)-এর দফা (ঙ) অনুযায়ী হলফনামায় অন্য কোনো ট্রাভেল এজেন্সি থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়। অথচ দেশে নিবন্ধিত প্রায় ৫ হাজার ৮০০ ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে ৮০০টি আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইয়াটা) সদস্য। বাকি প্রায় ৫ হাজার এজেন্সির নিজস্বভাবে এয়ারলাইনস টিকিট ইস্যুর সক্ষমতা নেই। ফলে তারা অন্য এজেন্সি থেকে টিকিট কিনতে না পারলে যাত্রীসেবা দিতে পারবে না এবং লাইসেন্স নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বার্ষিক ৫০ লাখ টাকার বিক্রয় বিবরণী দেখাতে ব্যর্থ হবে।
এতে এসব এজেন্সি বন্ধ হয়ে যেতে বাধ্য হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আটাব সদস্য কল্যাণ ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন টিপু বলেন, অধ্যাদেশের ধারা ৪-এর উপধারা (গ)-এর দফা (ছ)-এ অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ১০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টির বিধান রাখা হয়েছে। আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে প্রায় ৫ হাজার ট্রাভেল এজেন্সি এখনো আইয়াটার সদস্য হতে পারেনি। তাদের পক্ষে এই পরিমাণ জামানত দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
জালাল উদ্দিন টিপু বলেন, একই ধারায় ট্রাভেল এজেন্সির ঠিকানায় রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যবসা পরিচালনা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বিদেশগামী অভিবাসী কর্মীদের সেবা সহজ করতে একই ঠিকানায় ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পৃথক অফিস বাধ্যতামূলক করা হলে ব্যয় বাড়বে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়বে অভিবাসী কর্মীদের ওপর।
শুনানি ছাড়াই লাইসেন্স স্থগিতের বিধান নিয়ে উদ্বেগ
অধ্যাদেশের ধারা ৯-এর উপধারা (আ)-এর নতুন দফা ৩ অনুযায়ী শুনানি ছাড়াই সরকার সাময়িকভাবে নিবন্ধন সনদ স্থগিত করতে পারবে—এমন বিধান নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
ব্যবসায়ীদের মতে, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়া লাইসেন্স স্থগিতের ক্ষমতা দেওয়া হলে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো হয়রানির শিকার হবে এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।
শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানা বৃদ্ধির বিরোধিতা
নতুন অধ্যাদেশে ধারা ১১-এর উপধারা ১ অনুযায়ী, শাস্তির মেয়াদ ছয় মাসের কারাদণ্ড থেকে বাড়িয়ে এক বছর এবং জরিমানা ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগের আইনটি পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ ছিল। তাই আগের মতো ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বহাল রাখতে হবে।
প্রায় ৫ হাজার ট্রাভেল এজেন্সির মালিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের জীবিকা এই খাতের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ২০২৬ বাতিলের জন্য সংবাদ সম্মেলনে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ব্যবসায়ীরা।