বাংলাদেশের প্রায় সব জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে নারীর অধিকার, ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। ১৯৯১ সাল থেকে দলগুলোর ইশতেহার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উন্নয়নের মূলধারায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, সমান অধিকার নিশ্চিত করা, সহিংসতা বন্ধ করা ও নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করার বিষয়গুলো বারবার উঠে এসেছে নির্বাচনী অঙ্গীকারে। দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সেসব অঙ্গীকারের তুলনা করলে দেখা যায়, প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে বিশাল ব্যবধান।
এই বাস্তবতায় আজ ৮ মার্চ সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য- ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার: সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলো নারীর অধিকারকে ‘অধিকার’ হিসেবে না দেখে কল্যাণ কার্যক্রম হিসেবে দেখে। তাই বিভিন্ন সময়ে আইন, নীতিমালা, কর্মসূচি ও প্রকল্প নেওয়া হলেও নারীর প্রতি সহিংসতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে নারীর সীমিত অংশগ্রহণ, উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য এখনো প্রকট।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বিভিন্ন সময়ে ইশতেহারে নানা প্রতিশ্রুতি থাকলেও তার যথাযথ বাস্তবায়ন খুব কমই হয়েছে। গত কয়েক দশকে নারীর অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হলেও যে মাত্রায় পরিবর্তন হওয়া দরকার ছিল, তা হয়নি। তাঁর মতে, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়নের জন্য রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রেও দলগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি রাখেনি।
কোন দলের ইশতেহারে কী ছিল
১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে বিএনপি। সে সময় দলের ইশতেহারে বলা হয়েছিল, জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত নারী ও শিশু অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সনদগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেই অঙ্গীকারের পর ১৯৯১ সাল ও ২০০১ সালে দুই দফায় সরকার গঠন করে বিএনপি। তবে জাতিসংঘ ঘোষিত নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপের ‘সিডও’ সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন আজও হয়নি।
তবে বিএনপির ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান করে নারী ও শিশু নির্যাতন (বিশেষ বিধান) আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। একে ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন নারী অধিকার কর্মীরা।
১৯৯১ সালে বিএনপির ইশতেহারে আরও বলা হয়েছিল, দেশের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারীদের সম্পৃক্ত করা এবং তাদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র শিল্প ও অন্যান্য কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্প গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের সম্মানজনক ভূমিকা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। সে বছর দলটি তাদের ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেয়, জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী সমাজের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। উন্নয়নের মূল স্রোতোধারায় নারীদের সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি নারী নির্যাতন রোধ এবং সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বলছে, আওয়ামী লীগের ওই শাসনামলে নারী নির্যাতন রোধে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তা খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। ১৯৯৭ সালে ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, অ্যাসিড নিক্ষেপসহ নারীর প্রতি সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়েছিল ১ হাজার ৩৬৩টি। ২০০১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ১৪৯টিতে।
আওয়ামী লীগের ওই ইশতেহারে নারী শিক্ষার ব্যাপক প্রসারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী অবহেলিত নারী ও শিশুদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের প্রতিশ্রুতি ছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, ওই মেয়াদে আওয়ামী লীগ ইশতেহার অনুয়ায়ী নারী নির্যাতন রোধে এবং বৈষম্য দূর করতে কিছু পদক্ষেপ ও প্রকল্প নিলেও সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ১৯৯৬ সালের ওই মেয়াদের পরেও দলটি আরও তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনা করেছে। তবে নারী নির্যাতনের ভয়াবহতা আজও রয়ে গেছে।
২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করে। ওই বছর বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ধর্ষণের মতো অপরাধ দমনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই ইশতেহারে আরও বলা হয়েছিল, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, অ্যাসিড নিক্ষেপ ইত্যাদি অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং সন্ত্রাসীদের বিচার ও শাস্তি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রত্যেক জেলায় বিশেষ আদালত স্থাপন করা হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হবে। নারী অধিকার কর্মীদের মতে, ওই সময় বিশেষ আদালত স্থাপন হলেও দ্রুত সময়ে নারী নির্যাতনকারীদের শাস্তি কার্যকরের নজির কম। তাই ইশতেহারের ওই প্রতিশ্রুতি নির্যাতন প্রতিরোধে খুব একটা কাজে আসেনি বলে পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বলছে, ২০০১ সালে ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, অ্যাসিড নিক্ষেপসহ নারীর প্রতি সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়েছিল ৩ হাজার ১৪৯টি। বিএনপির শাসনামলে ২০০৫ সালে এ ধরনের ঘটনা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৯২২টিতে।
২০০১ সালে বিএনপির জোটসঙ্গী হিসেবে সরকারের অংশ ছিল জামায়াতে ইসলামী। ওই নির্বাচনে জামায়াতের ইশতেহারে ধর্ষণ, নারীর ওপর নির্যাতন, অ্যাসিড নিক্ষেপ, যৌতুক প্রথা কঠোর হাতে দমনের কথা বলা হয়েছিল। মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, নারী-পুরুষ কর্মীদের বেতন ও ভাতার বৈষম্য ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ছিল। নারীদের অধিকার বিষয়ে জামায়াতের ইশতেহারে বলা হয়েছিল, ইসলাম প্রদত্ত নারীর সর্বোচ্চ মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নারীদের মেধা, যোগ্যতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। অসহায় বিধবাসহ দুস্থ ও আশ্রয়হীন নারীদের পুনর্বাসনের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পতিতাবৃত্তি বিলুপ্ত করা হবে এবং এতে জড়িত নারীদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। নারীদের প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করা, তাদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বৃদ্ধিরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জামায়াত।
২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনা করে আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ১৯৯৭ সালে প্রণীত নারী উন্নয়ন নীতি পুনর্বহাল করার প্রতিশ্রুতি ছিল। জাতীয় সংসদে প্রত্যক্ষ ভোটে নারীর জন্য ১০০ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছিল। এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ১৬ বছর সরকার পরিচালনায় থেকেও করতে পারেনি দলটি।
২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি ছিল। এ ছাড়াও অঙ্গীকারের মধ্যে ছিল রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনের সব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ, প্রশাসন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে নারীর নিয়োগ বাড়ানোর নীতি অব্যাহত রাখা, নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি প্রতিরোধে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা, নারী ও শিশু পাচার রোধে গৃহীত আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, নারীর কর্মের স্বাধীনতা ও চলাফেরায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ধর্মের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে নারীবিদ্বেষী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, নারী শ্রমের মর্যাদা সুরক্ষা, শিল্প, বাণিজ্য ও সেবা খাতে নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ প্রণোদনা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো ইত্যাদি।
২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল উচ্চশিক্ষায় নারী-পুরুষ শিক্ষার্থীর অনুপাত ১০০ শতাংশে উন্নীত করা (অর্থাৎ সমানুপাতে নিয়ে আসা), নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং, ঋণ ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা, ‘জয়িতা’ ফাউন্ডেশন সম্প্রসারণের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তা তৈরি, সমান মজুরি নিশ্চিত করা, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত করা, নারী শ্রমিকদের জন্য চার মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি বাস্তবায়ন ইত্যাদি।
এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে মাতৃত্বকালীন ছুটি সরকারি অফিসে কার্যকর হলেও বেসরকারি পর্যায়ে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে খুব কম অফিসে। প্রান্তিক পর্যায়ে নারীর সমান মজুরি আজও নিশ্চিত হয়নি। উচ্চশিক্ষায় নারী-পুরুষ অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এখনো বিশাল পার্থক্য রয়েছে। নারী উদ্যোক্তা ও নারীর কর্মসংস্থান তৈরিতে আওয়ামী লীগ বেশ কিছু প্রকল্প নিয়েছিল। যেগুলো থেকে কিছু উদ্যোক্তা ও কর্মজীবী নারী বেরিয়ে এলেও প্রকল্পগুলো শতভাগ সফল হয়নি বলে মনে করেন অনেকে।
বর্তমান সরকারের ইশতেহারে কী আছে
বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ইশতেহারে প্রতিটা পরিবারে নারীর নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষা, নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিকাশ, নীতিনির্ধারণে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা বৃদ্ধি, লিঙ্গ-ভিত্তিক ও অনলাইন সহিংসতা, বিদ্বেষ এবং বুলিং নিরোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বাস্তবায়ন, ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষায়িত ‘নারী সাপোর্ট সেল’ প্রতিষ্ঠা, নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও দক্ষতা সহায়তা প্রদান, আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে নারী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কর্মস্থলে ’ডে-কেয়ার’ ও ’ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার’ স্থাপন, স্বাস্থ্য ও হাইজিনের জন্য ‘ভেন্ডিং মেশিন’ স্থাপন ইত্যাদি।
ইশতেহার আর বাস্তবতায় কেন বিশাল ফারাক
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, বেসিক (মৌলিক) সংকট হলো, রাজনৈতিক দলগুলো নারীর অধিকারটাকে তার অধিকার হিসেবে না দেখে কল্যাণমূলক কাজ হিসেবে দেখছে। যার জন্য প্রতীকী কিছু করা হচ্ছে। কিন্তু এতে করে নারীর অবস্থার আশানুরূপ উন্নয়ন হচ্ছে না। তাদের প্রতিশ্রুতি যদি কার্যকরই হয়, তাহলে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না কেন?
নারী নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক দলগুলোর আগ্রহ কম বলে মনে করেন ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, ‘দলগুলোর নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে নির্বাচনে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন। এটাও তারা দিতে পারে নাই। নেতৃত্ব তৈরির জন্য নারীকে এগিয়ে নিয়ে আসার জায়গাটাতে তারা হাত দিচ্ছে না। কাজেই আমার কাছে মনে হয়, বেসিক সংস্কার এখানটাতেই যে তারা নারীর অধিকারটাকে অধিকার হিসেবে বিবেচনা না করে কল্যাণ হিসেবে বিবেচনা করছে। যত দিন এই জায়গা থেকে তারা সরে না আসবে, তত দিন পর্যন্ত নারীর অধিকার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।’
সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, ইশতেহার আর বাস্তবতার বিশাল ব্যবধানের বড় কারণ পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। তিনি বলেন, যারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের জায়গাগুলোতে বসে আছেন তাদের বেশির ভাগই পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার। নারীদের মধ্যেও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা থাকে। নারীদের অনেক ক্ষেত্রে ‘টোকেনিজমের’ মাধ্যমে কিছু পদ দেওয়া হয়। প্রকৃত অর্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীরা উঠে এলে অনেক ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন তিনি।
বদিউল আলম বলেন, ‘আমরা এবার দেখলাম, রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েও নির্বাচনে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দিল না। এটাও পুরুষতান্ত্রিকতার একটি রূপ।’