দুই দশক পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নতুন মন্ত্রিসভার গঠন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে টেলিফোনে আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মঈন খান ও চাঁদপুর-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলন মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন।
২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করা মিলন আবারও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞদের প্রাধান্য দেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
মঈন খান ও মিলনের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও নতুন মুখও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ডাক পেতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। যারা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন, তাঁদের ইতোমধ্যে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে এই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালিত হবে।
এর আগে আজ মঙ্গলবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী বিএনপির সংসদ সদস্যরা দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে শপথ গ্রহণ করেন। নবনির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও তাঁরা ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে এখনো শপথ নেননি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ও নানা সমীকরণ ডালপালা মেলছে।
বিএনপির দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তারুণ্যের মিশেল থাকবে। দাপ্তরিক কাজে দক্ষতা এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে তারেক রহমান তাঁর ‘টিম’ নির্বাচন করছেন। বিশেষ করে অর্থনীতি ও আইন-শৃঙ্খলার মতো সংবেদনশীল খাতগুলোতে কার ওপর দায়িত্ব বর্তায়, তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা চলছে।
বিকেল ৪টার এই শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই অবসান ঘটবে দীর্ঘ বিশ বছরের প্রতীক্ষার।