জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে রাজধানীর লালবাগ থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮ /এ রোডের একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে কড়া পাহারায় একটি গাড়িতে করে তাঁকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, রাজধানীর লালবাগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের একটি মামলায় শিরীন শারমিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তাঁর অবস্থান নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নানা গুঞ্জন চলছিল। আজ ভোরে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শিরীন শারমিন চৌধুরীর নামে একাধিক মামলা হয়। গত ২৭ আগস্ট রংপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা হয়। ওই মামলায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও অভিযুক্ত এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে। এ ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে উসকানি ও সহিংসতার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর টানা তিন মেয়াদে তিনি এই পদে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি পুনরায় স্পিকার নির্বাচিত হন। তিনি রংপুর-৬ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর শিরীন শারমিন চৌধুরীও তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।