শিক্ষায় কোনো বৈষম্য রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, সারা দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের যেসব বিষয় কমন, সেসব বিষয়ে কমন প্রশ্ন করা হবে।
আজ সোমবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন অডিটরিয়ামে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নেবে একই প্রশ্নে, যেটি আগে আলাদা আলাদা হতো। ভবিষ্যতে মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে যে যে বিষয়গুলো একই বা কমন, সেগুলো কমন প্রশ্ন করা হবে। আমরা চাই না শিক্ষার মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকুক। মাদ্রাসাশিক্ষাকে আধুনিকায়ন করার জন্য সেটিতে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি করছি।’
শিক্ষা খাতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতের উন্নয়নের জন্য ব্যাপক কাজ করছেন। সিলেবাস ও কারিকুলাম ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন করা হচ্ছে। আনন্দময় শিক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিশুদের জন্য খেলাধুলা, নীতি-নৈতিকতাসহ বিভিন্ন বিষয় শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশে জনসংখ্যা বেশি। এই জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। সে জন্য কারিগরি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা বাজেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট জিডিপির পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত দিতে রাজি আছেন। কিন্তু জিডিপির পাঁচ শতাংশ বাজেট ব্যবস্থাপনা করার সক্ষমতা এই মুহূর্তে আমাদের নেই। ক্রমান্বয়ে আমরা ধাপে ধাপে বাজেট বাড়াব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
আলোচনা সভা শেষে শিক্ষা, গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে অবদানের জন্য ৪৯ জন শিক্ষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং তিনজন শিক্ষককে ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ দেওয়া হয়।