আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অকার্যকর ও অনুপযোগী ডেমু ট্রেন কেনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় ৫৯৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। সঠিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই ছাড়াই এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয় বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এই ঘটনায় আজ বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রেলের সাবেক মহাপরিচালক মো. তোহিদুল আনোয়ার চৌধুরীসহ সাত সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।
দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন। বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
মামলার আসামিরা হলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক মহাপরিচালক মো. তোহিদুল আনোয়ার চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক ও সাবেক প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মো. ইফতিখার হোসেন, সাবেক প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পূর্ব) মো. আক্তারুজ্জামান হায়দার, পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক উপসচিব বেনজামিন হেমক্রম, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপপ্রধান অঞ্জন কুমার বিশ্বাস, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপসচিব আশরাফুজ্জামান এবং বাস্তবায়ন, নিরীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সাবেক উপপরিচালক মো. মুমিতুর রহমান।
মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় যোগসাজশ করে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নেন। কোনো ধরনের সঠিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই ছাড়াই ডেমু ট্রেন ক্রয় প্রকল্পের অনুমোদন নেওয়া হয়।
দুদক মনে করছে, এর ফলে বাংলাদেশের রেল অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, অকার্যকর ও লোকসানি ট্রেন কেনা হয়। এতে আসামিরা ব্যক্তিগতভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হন এবং অন্যদের সুবিধা দেন। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রায় ৫৯৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।