জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১ তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করে এই পদে নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটাভুটিতে খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পান, আর কাকোরিস পান ৯১ ভোট। মোট ১৯০টি ভোট গণনা করা হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদটি প্রতি বছর পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ঘুরে আসে। ৮১ তম অধিবেশনের জন্য এই পদটি বরাদ্দ ছিল এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য। তাই ওই অঞ্চলের সমর্থন নিয়ে প্রার্থিতা দেয় বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের কার্যবিধির ৩০ নম্বর বিধি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের নিজেদের ভিশন বা কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হয় এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে উন্মুক্ত সংলাপে অংশ নিতে হয়। নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করাই এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য।
প্রথমদিকে ফিলিস্তিনও এই পদে আগ্রহ দেখালেও পরে তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে ওঠে।
অনেক সময় একটি অঞ্চলের দেশগুলো ঐকমত্যে একজন প্রার্থী ঠিক করে ফেললে সাধারণ পরিষদের সভাপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। কিন্তু এবার বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস—দুই দেশই প্রার্থী দেওয়ায় গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়। জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের প্রত্যেকটির একটি করে ভোট রয়েছে। ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেই ড. খলিলুর বিজয়ী হন।
এই বিজয়ের মাধ্যমে প্রায় চার দশক পর আবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলো। এর আগে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ইউএনজিএর ৪১ তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ৮১ তম অধিবেশন আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে এবং এক বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন ড. খলিলুর রহমান।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিজয় বহুপাক্ষিক কূটনীতি, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই উন্নয়ন প্রশ্নে বাংলাদেশের প্রতি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আস্থার প্রতিফলন।