বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ করে তা পাচারের অভিযোগে দায়ের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ দিন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাদী রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের অর্থ পাচারের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৬ সালের ১৮ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩০ মে পর্যন্ত ৯ হাজার ৩৭২ জন কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার পরিবর্তে জনপ্রতি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া পাসপোর্ট, কোভিড-১৯ পরীক্ষা, মেডিকেল ও পোশাক বাবদ আরও ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়। এতে জনপ্রতি অতিরিক্ত আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৭ হাজার ৫১০ টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ কোটি ৭৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা অবৈধভাবে আদায় ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ গ্রহণ, হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে আসামিরা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে বনানী থানায় এই মামলা করে সিআইডি। গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৪ মার্চ রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ২৯ মার্চ একই মামলায় তাঁকে দ্বিতীয় দফায় ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গত ৪ এপ্রিল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে একই মামলায় ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর মিরপুর থানায় দায়ের দেলোয়ার হত্যা মামলায় ৪ দফা রিমান্ডে নেওয়া হয় তাঁকে। ৪ মে তাঁকে মিরপুর থানায় দায়ের বিপ্লব শেখ হত্যা মামলায় ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। মোট আট দফা রিমান্ডে নেওয়ার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।