ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ দুজনকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে (রিমান্ড) নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ রোববার আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই এসটিএফের বরাত দিয়ে জানায়, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধ করে দুই ব্যক্তি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তাঁরা বনগাঁর সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন এবং সুযোগ বুঝে পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।’
এসটিএফ তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আটক দুই বাংলাদেশি হলেন—রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭), তাঁর বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। অন্যজন আলমগীর হোসেন (৩৪), তিনি ঢাকার বাসিন্দা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন, তাঁরা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। খুনের ঘটনার পর তাঁরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর ভারতের বিভিন্ন স্থানে পরিচয় গোপন করে ঘুরে বেড়ানোর পর অবশেষে বনগাঁয় এসে পৌঁছান। সেখান থেকেই তাঁরা আবার সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ঢোকার পরিকল্পনা করছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই অপরাধী চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না এবং ভারতে তাঁদের অন্য কোনো আশ্রয়দাতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালসহ ভারতে গ্রেপ্তার দুজনকে বাংলাদেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হাদি হত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) এবং আলমগীর হোসেনকে (৩৪) পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।