আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রেলযাত্রায় কোনো ধরনের হয়রানি, বিশৃঙ্খলা বা কালোবাজারির অভিযোগ দেখতে চান না সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, টিকিট বিক্রি থেকে শুরু করে ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা ও যাত্রীসেবার মান—সবকিছুতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
রেলভবনে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রেল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন। সভাসূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সভায় মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগ উঠবে কেন—এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। এটি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সংশ্লিষ্টদের দায় নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ, ২৪ ঘণ্টা তদারকি এবং স্টেশনে সরাসরি উপস্থিত থেকে মনিটরিং করা হবে। এই ঈদে হয়রানিমুক্ত, স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন রেলযাত্রা নিশ্চিত করতে চাই।’
মন্ত্রীর প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে রেলের কর্মকর্তারা সভায় জানান, বর্তমানে ১০০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে; মাত্র ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত। একই এনআইডি ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে একাধিক টিকিট কাটার চেষ্টা শনাক্ত করে তা ব্লক করা হচ্ছে। ভ্রমণকারীর নামের সঙ্গে টিকিট মিলিয়ে তদারকিও জোরদার করা হয়েছে।
সক্ষমতার বাইরে সেবা নয়
ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সক্ষমতার বাইরে টিকিট ছেড়ে পরে সময়সূচি ভেঙে পড়া বা সেবার মান নষ্ট হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। যতটুকু বাড়তি সেবা দেওয়া হবে, তা যেন ব্যবস্থাপনার আওতায় থাকে। আন্তনগর ট্রেনে ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিটের বিষয়টি তিনি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেন বলে সভায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
লোকসান, দুর্নীতি ও অপচয়ে কড়াকড়ি
সভায় রেল খাতের দীর্ঘদিনের লোকসান, দুর্নীতি ও অপচয় নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাজেট ব্যয় হবে কিন্তু কাজের অগ্রগতি থাকবে না—এ সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। চলমান প্রকল্পগুলো কেন দীর্ঘদিনেও শেষ হচ্ছে না, কোথায় প্রতিবন্ধকতা—তা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের পথে যেতে হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে সময় কমাতে নির্দেশ
সভায় মন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে রেলের যাত্রাসময় কমানো এবং প্রথম শ্রেণির সেবার মানোন্নয়নে সাত দিনের মধ্যে সুস্পষ্ট প্রস্তাব দিতে বলেছেন বলে জানিয়েছে সভাসূত্র। এ ছাড়া দেশে রেল ইঞ্জিন উৎপাদনের সক্ষমতা আছে কি না, আগে ছিল কি না—তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকারের অধীনে রেল মন্ত্রণালয় সময়ানুবর্তিতা, ন্যূনতম মানসম্মত পরিবেশ ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করে জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে সভাসূত্র জানিয়েছে।
সভায় সড়ক, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান উপস্থিত ছিলেন।