নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, এবারের নির্বাচনটা হবে লাইনচ্যুত ট্রেনকে আবার লাইনে এনে চালু করা। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনজিও ব্যুরো কার্যালয়ে আজ বুধবার ৮১টি সংস্থার মোর্চা ‘এলায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি: এএফইডি’র একটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও সংস্কার কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে সানাউল্লাহ বলেন, ‘২০২৬ সালের নির্বাচন অনেকটা লাইনচ্যুত একটি ট্রেনকে আবার লাইনে ফিরিয়ে এনে চালু করার মতো। ন্যূনতম সংস্কার করে, কিছু যন্ত্রাংশ বদলে অন্তত গতি দেওয়ার চেষ্টা। যদি আমরা এটা করতে পারি, তাহলে এটাকেই আমরা প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে ধরতে পারি। এরপর পরবর্তী দিকনির্দেশনায় আরও উন্নতির দিকে এগোতে হবে।’
সানাউল্লাহ বলেন, ‘প্রথমেই যদি আমি ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট বলতে চাই, আমি তিনটি নির্বাচন ও সেই সময়পর্বকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। ১৯৯১,২০০৮ এবং এই নির্বাচন। এই তিনটি সময়ে উল্লেখযোগ্য কিছু সংস্কার, আইনি পরিবর্তন, সংশোধন ও পরিমার্জন হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি এটাও বলতে চাই, এখনো কিছু ঘাটতি থেকেই যাবে। সামনের দু-তিনটি নির্বাচনে ধাপে ধাপে সেগুলো ঠিকঠাক করে একটি শক্ত ও স্বচ্ছ ভিত্তি তৈরি করতে হবে। যাতে বিতর্কের জায়গা কমে আসে এবং স্বচ্ছতার পরিসর আরও বিস্তৃত হয়।’
সানাউল্লাহ বলেন, ‘গত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে দুঃখজনকভাবে কিছু সংস্থা যথাযথ দায়িত্ব পালন না করায় অনেককেই নিবন্ধন দিতে পারিনি। আমাদের কাছে তিন শতাধিক আবেদন এসেছিল। সেখান থেকে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা ৮১টি প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন দিতে পেরেছি। আমরা আশা করি, এই সংস্থাগুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করবে। ভবিষ্যতে এই স্পেসটিকে আমাদের আরও বড় করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের জন্য প্রথমবার ভোটার, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারা মানুষ, নারী ভোটার, প্রতিবন্ধী ভোটার, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, দূরবর্তী এলাকায় কর্মরত শ্রমজীবী মানুষ—সবাইকে কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায়, সে বিষয়ে আপনাদের পর্যবেক্ষণ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।’