ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে বাসমালিকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং সড়ক-রেলপথে অব্যবস্থাপনার কারণে মৃত্যুর মিছিল চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় দরিদ্র ও কর্মজীবী মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক বা ট্রেনের ছাদে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং এর ফলে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা এই সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই অভিযোগ তোলেন। জরুরি ভিত্তিতে ভাড়ার এই নৈরাজ্য বন্ধ করে সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি আসন্ন ঈদুল আজহায় তাদের বিভিন্ন জেলা ও ইউনিট শাখার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা মাঠপর্যায়ে রক্ষা করা হচ্ছে না।
এরই মর্মান্তিক পরিণতি হিসেবে গতকাল সোমবার ভোরে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৭ জন নিহত এবং অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন। নিহত ব্যক্তিদের সবাই পেশায় ফেরিওয়ালা ও দিনমজুর ছিলেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, অতিরিক্ত বাসভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় ওই শ্রমজীবী মানুষগুলো চট্টগ্রাম থেকে কম ভাড়ায় রডবোঝাই ট্রাকে চড়ে সুদূর নওগাঁর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। এ ছাড়া নরসিংদীর ঘোড়াশালে ট্রেনের ছাদে চড়ে যাওয়ার সময় বজ্রপাতে আরও দুই যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
বিবৃতিতে মোজাম্মেল হক চৌধুরী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছর ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সামর্থ্যহীন খেটে খাওয়া, কর্মজীবী, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিকসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের লাখো লাখো মানুষ ট্রেনের ছাদে, বাসের ছাদে কিংবা খোলা পণ্যবাহী ট্রাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
মোজাম্মেল হক আরও যোগ করেন, ‘যাদের ঘাম ও শ্রমে আমাদের দেশের অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত হচ্ছে, তাদের বছরে দুটি ঈদে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।’
বর্তমান দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও আসন্ন ঈদের ট্র্যাজেডি এড়াতে সড়ক, রেল ও নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই হওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য পরিবহনসংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
একই সঙ্গে দেশের যাত্রীসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে—
নিজের ও পরিবারের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে বাসের ছাদে, খোলা ট্রাকে বা ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন।
ফিটনেসবিহীন বাস ও ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চে আরোহণ করবেন না।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা মানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাসমূহকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।