হোম > অর্থনীতি

ভোটের আগেই ৩২ প্রকল্প অনুমোদনের উদ্যোগ

মাহফুজুল ইসলাম, ঢাকা

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সাধারণত একটি রেওয়াজ অনুসরণ করা হয়—প্রার্থীদের নির্বাচনী সুবিধা নেওয়ার সুযোগ যাতে না থাকে, সে কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় নতুন কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয় না। এ সময়টাতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকও সাধারণত আর বসে না।

কিন্তু এবার সে চেনা প্রেক্ষাপট বদলেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আগের সরকারগুলোর মতো প্রচলিত রেওয়াজে আটকে থাকছে না। জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেই আরও তিনটি একনেক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এসব বৈঠকে মোট ৩২টি প্রকল্প অনুমোদনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হচ্ছে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, এসব প্রকল্পের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের যুক্তি হলো, নির্বাচনী সময় হলেও এসব খাতের উন্নয়ন স্থগিত রাখা জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই প্রচলিত রেওয়াজের বাইরে গিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যমতে, তফসিল-পরবর্তী প্রথম সভা চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। তারপর আরও দুটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিশনের একজন সচিব এ প্রসঙ্গে জানান, তফসিল ঘোষণার পর একনেক সভা আয়োজনের ক্ষেত্রে আইনি কোনো বাধা নেই।

তবে আগের সরকারগুলো নিজেদেরকে সাধু দেখাতে আর একনেক সভা করত না। কিন্তু কতটা সাধু, তা তো সবার জানা।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার, শুধু নির্বাচনী সরকার না। এ কারণে নির্বাচনের আগপর্যন্ত জাতীয় একনেক সভা করা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। ফলে নির্বাচনের আগপর্যন্ত প্রকল্প অনুমোদন কিংবা বাতিল করা যাবে। আমরা সে কাজটি করব। উপদেষ্টা জানান, প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কোনো এলাকা কিংবা নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব পড়তে পারে, এমন প্রকল্প অনুমোদন হবে না।’

এদিকে আগামী সপ্তাহে একটি একনেক সভা বসছে, যেখানে বেশ কিছু প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে বলে আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এস এম শাকিল আখতার। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে এডিপির আকার ধরা হয় ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে নেমে আসে ২ লাখ কোটি টাকায়। তবে ২০১৫ সালের জানুয়ারি-ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে মোট ১৩টি বৈঠক থেকে ১৬৫টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এতে মোট অনুমোদিত ব্যয় নির্ধারণ হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিসেম্বর মাসেই ৪০ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৬২ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকার ব্যয় অনুমোদন হয়েছে, যা পুরো বছরে অনুমোদিত ব্যয়ের ৪৩ শতাংশ। যেখানে বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠান বাপেক্স উন্নয়নে নেওয়া সাড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বৃহৎ প্রকল্পও রয়েছে।

তবে প্রকল্প অনুমোদন হলেও বাস্তবায়নের চিত্র খুবই উদ্বেগজনক। বিদায়ী বছরে এডিপি বাস্তবায়নের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৯২ কোটি ১১ লাখ টাকা। খাতভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে করুণ অবস্থা স্বাস্থ্য খাতে। বছরজুড়ে এ খাতে বরাদ্দের মাত্র ১৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন আজকের পত্রিকাকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বলেই নির্বাচনের আগেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ ইসির

এবার আনিসুল হক ও তৌফিকা করিমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা

দ্বিতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আরও ৫৮ প্রার্থী

এস আলম গ্রুপের আরও ৪৩১.৬৯ শতাংশ জমি ক্রোকের নির্দেশ

চাঁদপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী জালাল উদ্দিনের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

সরকার কোনো দলকে এক্সট্রা সুবিধা দিচ্ছে না: প্রেস সচিব

নির্বাচনের পর কী করবেন ড. ইউনূস, জানাল প্রেস উইং

জাপা ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিলে রুল

আয়কর ফাঁকির মামলায় খালাস পেলেন বিএনপির নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার

ওমান, কাতার ও সৌদিগামীদের ভিসা যাচাইয়ে আইভিআর সেবা চালু করল ‘আমি প্রবাসী’