হোম > জাতীয়

এক বছরে আত্মহত্যা ৪০৩ শিক্ষার্থীর, বেশি ঢাকা বিভাগে: আঁচল ফাউন্ডেশন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

২০২৫ সালে দেশজুড়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৮ জন। এমন চিত্র উঠে এসেছে এক সমীক্ষায়। এর আগে ২০২৪ সালে মোট ৩১০ শিক্ষার্থী এবং ২০২৩ সালে দেশে মোট ৫১৩ শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন।

আজ শনিবার সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট শীর্ষক’ সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সমীক্ষার তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।

আঁচল ফাউন্ডেশনের গবেষকেরা মনে করেন, আত্মহত্যার সবচেয়ে বড় দুটি কারণ হতাশা এবং অভিমান। এছাড়া সামাজিক ও পারিবারিক চাপ, সম্পর্কগত টানাপোড়েন এবং আবেগীয় সংকট, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা, কর্মসংস্থান ও আত্মপরিচয় সংকট আত্মহত্যায় প্ররোচিত করছে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মহত্যার পিছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করে হতাশা। হতাশার কারণে আত্মহত্যা করে প্রায় ৩৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা করেছে ২৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। মানসিক অস্থিরতার কারণে আত্মহত্যা করে ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশার পরিমাণ আরও বেশি। হতাশার কারণে ৪৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এছাড়া, প্রেমঘটিত কারণে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, অভিমানে ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং পারিবারিক টানাপোড়েনে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

সমীক্ষার তথ্য বলছে, আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৪৯ জন বা ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী এবং ১৫৪ জন বা ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার হার পুরুষের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। স্কুলে ১৩৯ জন নারী ও ৫১ জন পুরুষ; কলেজে ৫০ জন নারী ও ৪২ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা সামান্য বেশি; যেখানে ৪১ জন পুরুষের বিপরীতে ৩৬ জন নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। মাদ্রাসায় ২৪ জন নারী ও ২০ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে।

আত্মহত্যার কারণ হিসেবে সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হতাশার ক্ষেত্রে নারী ৬২ বা ৫৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ ও পুরুষ ৫০ জন বা ৪৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ, অভিমানে নারী ৫৮ জন বা ৬১ দশমিক ৭০ শতাংশ ও পুরুষ ৩৬ জন বা ৩৮ দশমিক ২৯ শতাংশ আত্মহত্যা করেছে। একাডেমিক চাপে ৭২ জন আত্মহত্যা করেছে, যার অধিকাংশই স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থী যেখানে নারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যাই সর্বাধিক যা শতাংশের হিসেবে ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। প্রেমঘটিত কারণে ৫৩ জন বা ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ, পারিবারিক টানাপোড়েনে ৩২ জন বা ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ, মানসিক অস্থিতিশীলতায় ২৫ জন বা ৬ দশমিক ২০ শতাংশ এবং যৌন নির্যাতনের কারণে ১৪ জন বা ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

আঁচল ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, সাইবার বুলিংয়ের কারণেও একজন নারী শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে, যা ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অনলাইন সহিংসতার নতুন মাত্রা তুলে ধরে।

বিভাগভিত্তিক চিত্র

সমীক্ষার বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৮ জন বা ২৯ দশমিক ২৪ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। জনসংখ্যার ঘনত্ব, নগরায়ণ, প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা এবং পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৩ জন তথা ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৫৭ জন বা ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং রাজশাহী বিভাগে ৫০ জন তথা ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এ পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে এটি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমস্যা নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত একটি সংকট।

বয়সভিত্তিক পর্যালোচনা

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষনে দেখা যায়, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৬৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা মোট আত্মহননকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এদের মধ্যে ১৯০ জন নারী ও ৭৮ জন পুরুষ। ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ২২ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যেখানে পুরুষের সংখ্যা ৫১ এবং নারীর সংখ্যা ৪০। ১ থেকে ১২ বছর বয়সী ৪৪ জন বা ১০ দশমিক ৯ শতাংশ শিশুর আত্মহত্যা করেছে।

শিক্ষার স্তর অনুযায়ী পর্যালোচনা

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৭৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের, ১৭ জন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের, মেডিকেল কলেজের ৬ জন ও ১০ জন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থী। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীর চেয়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার বেশি যা মোট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ।

৯২ জন কলেজশিক্ষার্থীর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, হতাশা ছিল আত্মহত্যার প্রধান কারণ, যা মোট ঘটনার ২৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। একাডেমিক চাপে আত্মহত্যা করেছে ২০ দশমিক ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। অভিমান ও প্রেমঘটিত কারণ উভয় ক্ষেত্রেই এই হার সমান যা ১৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। পারিবারিক টানাপোড়েনে আত্মহত্যা করেছে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ, মানসিক অস্থিতিশীলতায় ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং যৌন নির্যাতনের কারণে ১ দশমিক ০৮ শতাংশ শিক্ষার্থী।

৪৪ জন মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর মধ্যে আত্মহত্যার প্রধান কারণ ছিল হতাশা, যা মোট ঘটনার ৩৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অভিমানের কারণে আত্মহত্যা করেছে ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। প্রেমঘটিত কারণ রয়েছে ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং পারিবারিক টানাপোড়েনে ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। একাডেমিক চাপের হার ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ, মানসিক অস্থিতিশীলতায় ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং যৌন নির্যাতনের কারণে ২ দশমিক ২৮ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

নারীর নিরাপদ কর্মপরিবেশের বরাদ্দ কমেছে ১২ শতাংশ

চার দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

চার দিন গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকবে: তিতাস

ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন রাষ্ট্র গঠনে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য

গায়েহলুদের অনুষ্ঠানে নাচের আয়োজন বন্ধ করতে বললেন বিএনপির এমপি

জিয়াউলের মামলায় প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছেন­—বললেন চিফ প্রসিকিউটর

‘মবোক্রেসি’ শব্দ এক্সপাঞ্জের দাবি জামায়াতের, স্পিকার বললেন—এটি অশ্লীল নয়

সেনার পর এবার ৫ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়িয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়

শোকর করেন, অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন—সংসদে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্পিকার