ঢাকা: চীন থেকে কোভিড-১৯ এর টিকা কেনার জন্য যে চুক্তি প্রয়োজন তা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। মঙ্গলবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতিসংঘের ৭৫ তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান বজকিরের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে আয়োজিত ষষ্ট বঙ্গবন্ধু লেকচার সিরিজের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশে কোভিডে মৃত্যুর হিসেব তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রকে আমরা অনুরোধ করলাম টিকা সরবরাহ করতে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে কোভিড বাংলাদেশে কোন সংকট সৃষ্টি করেনি। আমরা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানতে পারলাম যে যুক্তরাষ্ট্রের টিকা সরবরাহের তালিকায় বাংলাদেশ নেই। এ জন্য আমরা অন্য ভাবে চেষ্টা করছি।'
মন্ত্রী বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা এখন অন্য টিকা নিয়ে আসব। চীনের টিকাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন দিক আর না দিক, এটি ভালো টিকা। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি চীনের টিকা আনব। সিদ্ধান্ত নিয়েছি রাশিয়ারও টিকা আনব।'
চীনের টিকার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের কাছে আমরা টিকা চেয়েছি। তাঁরা আমাদের টিকা দেবে। আমরা তাদের কাছে টিকার স্থিতিশীল সরবরাহ চেয়েছি। এ বিষয়ে চীন বাংলাদেশকে নিশ্চয়তা দিয়েছে। জুন, জালাই ও আগস্টে টিকা চেয়েছি। এর পরবর্তীতেও যেন পাই তাও বলেছি। এ টিকা অর্ডার দেওয়ার পর উৎপাদন করা হয়। আমরা এখন দিয়েছি।
কোভেক্সের টিকার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কোভেক্সের টিকা পাওয়ার কথা ছিল। সেটি এখনও আসেনি। এটি আসলে এ সমস্যাটি দূর হয়ে যেত। সেটিও আমরা আশা করছি পেয়ে যাব। আগামীতে বাংলাদেশের টিকার সমস্যা হবে না।
চীনের কাছ থেকে দেড় কোটি টিকা পেতে চুক্তি কি চূড়ান্ত? এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, মোটামুটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একেবারে হয়নি, তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে। সব আলোচনা খুবই ইতিবাচক।
রাশিয়া থেকে টিকা আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা মোটামুটি শেষ। কবে পাঠাবে, কখন পাঠাবে, বিমা ইত্যাদি বিষয়ে এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আলোচনা করছে।