সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবের ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্টদের বিদেশে থাকা অ্যাপার্টমেন্ট, বাড়ি, দোকানসহ মোট ১৮২৪ কোটি ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯০৫ টাকার সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই নির্দেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত পৃথক পৃথকভাবে এই নির্দেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ এসব বিষয় নিশ্চিত করেন।
দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্টদের বিদেশে থাকা এসব সম্পদ ক্রোকের নির্দেশনা চেয়ে আদালতে সাতটি আবেদন করেন। আবেদনের শুনানি শেষে যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ভারত, দুবাই ও কম্বোডিয়ার এসব সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। এসব সম্পদের মোট ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ১৮২৪ কোটি ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯০৫ টাকা।
দুদকের আবেদন থেকে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের মোট ক্রয়মূল্য ৪৩৬ কোটি ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ২৪২ টাকা, মালয়েশিয়ার সম্পদের ক্রয়মূল্য ৩১ কোটি ৪৮ লাখ ১৭৪, থাইল্যান্ডের সম্পদের ক্রয়মূল্য ১৩৯ কোটি ১৬ লাখ ৭৬ হাজার ৬৯২, ভিয়েতনামের সম্পদের ক্রয়মূল্য ৮৩ কোটি ২৫ লাখ ২৯ হাজার ২৯, ভারতের সম্পদের ক্রয়মূল্য ৯ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ১০০, দুবাইয়ের সম্পদের ক্রয়মূল্য ৬৯৮ কোটি ৭১ লাখ ৭২ হাজার ৯৬৮ ও কম্বোডিয়ার সম্পদের ক্রয়মূল্য ৪৩৩ কোটি ৬৩ লাখ ১৩ হাজার ৯০০ টাকা। এই সাত দেশে থাকা অ্যাপার্টমেন্ট, বাড়ি ও দোকান ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে সাবেক এই মন্ত্রীর যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ৫৮০টি বাড়ি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান ঘুষ দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করে দখলে রেখেছেন ও বিদেশে অর্থ পাচার করে সম্পদ অর্জন করেছেন। ইতিমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তাঁর দুর্নীতি ও অর্থপাচারের ব্যাপক অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে। মামলাগুলোরও তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত ও তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের অনুসন্ধান চলাকালে তাঁর স্ত্রী রুকমিলা জামানের গাড়িচালক ইলিয়াস তালুকদারের বাড়ির প্রতিবেশী ওসমান তালুকদারের বাড়ি থেকে বিভিন্ন দলিলপত্র উদ্ধার হয়। ওই সব দলিলপত্রে দেখা যায়, সাইফুজ্জামান ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্টদের দেশের বাইরে ৩২৮টি সম্পদ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এসব সম্পদ ফেরত আনা জরুরি। এ জন্য সেগুলো ক্রোকের নির্দেশ প্রয়োজন।
শুনানি শেষে আদালত ক্রোকের নির্দেশ দেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে দুদককে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর সাইফুজ্জামান এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় থাকা ছয়টি ফ্ল্যাট ও নয়টি ভবন ক্রোকের নির্দেশ দেন ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত। গত বছর ১৭ অক্টোবর সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের নামে থাকা দেশ-বিদেশের ৫৮০ বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, জমিসহ স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ব্যাংকের হিসাব ও বাংলাদেশের একটি ব্যাংকের হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত ৫ মার্চ তাঁর ৩৯টি ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ৯ মার্চ সাইফুজ্জামানের ১০২ কোটি টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ এবং ৯৫৭ বিঘা জমি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ৯ জুলাই ৫৭৬ কোটি টাকার বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ২৮ অক্টোবর ৪৪ কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী রুকমিলা জামানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। সম্প্রতি সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ রেড নোটিশ জারি করার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।