বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন আরও দুজন। আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এদিন সাক্ষ্য দেন আন্দোলনের সময় মিরপুর এলাকায় মারা যাওয়া আকরাম খান রাব্বীর পিতা ও মেহেরুন নেছা তানহার মামা ফারুক খান এবং তানহার বাবা মোশারফ হোসেন। এর আগে এই মামলায় সাক্ষ্য দেন আন্দোলনে মারা যাওয়া আসিফ ইকবালের পিতা এম এ রাজ্জাক।
জবানবন্দিতে ফারুক খান জানান, তার ছেলে আকরাম খান রাব্বী চব্বিশের ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বরে পপুলার হাসপাতালের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। দুই দিন পর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পূর্ব বাইশটেক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ফারুক খান বলেন, ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর ভাগনি মেহেরুন নেছা তানহা বিজয় মিছিল নিয়ে গণভবনে যায়। বিকেলে হাতে ফুল নিয়ে বাসায় ফিরে আসে। হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ শুনে তিনি ভাগনি তানহাকে ভবনের ভেতরে ওপরে যেতে বলেন। তানহা বাসায় গিয়ে জানালা থেকে বাইরের পরিস্থিতি দেখে তার ভাইকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলে। ওইসময় বাহির থেকে ছোড়া একটি গুলি তানহার বুকে বিদ্ধ হয়। সে সময় বাসায় সাবলেট থাকা আরও একজন মহিলাও গুলিবিদ্ধ হন। দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তানহাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফারুক খান আরও বলেন, তারা মিরপুরবাসী নিখিলকে (যুবলীগের) অস্ত্র হাতে গুলি করতে এবং অন্যদের গুলির নির্দেশ দিতে দেখেছেন। তিনি ছেলে রাব্বী ও ভাগনি তানহার হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, বাহা উদ্দিন নাছিম, আরাফাত, ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং যুবলীগের পরশ, মিরপুরের নিখিলকে দায়ী করেন এবং জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনালে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।