রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বোমা-আতঙ্ক ও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হলেও এর নেপথ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
আজ রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জানতে চান, পুলিশের যানবাহনে হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে কি না?
জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ও রকম স্পেসিফিক বা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে আমরা সবসময় সতর্ক থাকি। সিনিয়র কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করেন।’ তিনি বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে যারা দায়িত্ব পালন করি, তারা যেন আরও সতর্ক থাকি, সেজন্যই পুলিশ সদর দপ্তর ও সিনিয়র অফিসারগণ এই রিমাইন্ডার দেন। যারা আমাদের সুপারভাইজ করেন তারাই এই সতর্কতার বার্তা দেন। এটা সব সময় দিয়ে থাকেন।’
পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স কন্ট্রোল রুম থেকে গতকাল শনিবার মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় পুলিশের ব্যবহৃত জিপ, পিকআপ ও বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সেই বার্তায় বলা হয়, উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুর্বৃত্তরা এসব যানবাহনকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। তাই দায়িত্ব পালনকালে যানবাহন নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে। এ ছাড়া ডিউটি শেষে থানা, পুলিশ লাইনস ও অফিস প্রাঙ্গণে রাখা যানবাহনের নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ডিবি প্রধান বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশের নিজেদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বোমা-সংক্রান্ত ঘটনা ও গুজব ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে সদস্যদের আবারও সতর্ক করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগেও এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের যানবাহন থেকে শুরু করে স্থাপনাগুলো যেন নিরাপদ থাকে, সেজন্য সদস্যদের অধিক সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে কিছু ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা হয়েছে। সে কারণেই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এটা একটা রিমাইন্ডার।
গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতর থেকে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করে তা নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ। পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে একটি বস্তাকে ঘিরে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও সেখানে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।
এরপর গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর উপকণ্ঠ আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধারের কথা জানায় ডিএমপি। পরে সেটিও নিষ্ক্রিয় করা হয়।
সবশেষ গতকাল শনিবার মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে পাওয়া দুটি সন্দেহজনক ব্যাগ ও বস্তা পরীক্ষা করে সেগুলো বিস্ফোরকমুক্ত বলে জানায় ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল।
মতিঝিলে আইইডি উদ্ধারের তদন্ত প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। একই সঙ্গে ডিবিও এ ঘটনায় ছায়া তদন্ত করছে। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
এ ঘটনায় কোনো সংগঠনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা সাধারণত এককভাবে কেউ করে না। কোনো না কোনো মতাদর্শ বা উদ্দেশ্য প্রচারের জন্য এ ধরনের কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে।