জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী ও কন্যার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুদক সূত্র জানায়, সামশুল হক চৌধুরীর নামে প্রাথমিক অনুসন্ধানে মোট ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৭ হাজার ৯৫৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে তাঁর গ্রহণযোগ্য বৈধ আয়ের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৯০ লাখ ১৩ হাজার ৯৫৬ টাকা। এ সময় তাঁর পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়ের পরিমাণ ৩ কোটি ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৫৯৪ টাকা।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ব্যয় বাদে সাবেক এই হুইপের সঞ্চয়ের পরিমাণ ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। কিন্তু অর্জিত সম্পদের তুলনায় তাঁর বৈধ আয়ের ঘাটতি পাওয়া গেছে ৫ কোটি ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯৫ টাকা। দুদক বলছে, এ অর্থ জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে অর্জিত।
একই অনুসন্ধানে সামশুল হক চৌধুরীর স্ত্রী কামরুন নাহার চৌধুরীর নামেও বিপুল সম্পদের অসংগতি পাওয়া গেছে। অনুসন্ধান অনুযায়ী, তাঁর নামে মোট ৭ কোটি ২১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৬ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। বিপরীতে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ মাত্র ৯৪ লাখ ৮ হাজার ১৬৭ টাকা। একই সময়ে তাঁর পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ লাখ ২৯ হাজার ৫৮৪ টাকা। এতে তাঁর সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ লাখ ৭৮ হাজার ৫৮৩ টাকা। সেই হিসাবে তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৭৬ হাজার ২০৩ টাকা।
এ ছাড়া তাঁদের কন্যা তাকলিমা নাছরিন চৌধুরীর নামেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তাঁর নামে মোট ৩ কোটি ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৯ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। বিপরীতে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ৩১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯৬ টাকা। একই সময়ে তাঁর পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫০ টাকা। ফলে তাঁর সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ লাখ ৯৩ হাজার ২৪৬ টাকা। সেই হিসাবে তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ পাওয়া গেছে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮৮ হাজার ৭২৩ টাকা।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাঁদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের অসংগতি পাওয়ার পর সামশুল হক চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী ও কন্যার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ও ১০৯ ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।