প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) জাল সনদ দেখিয়ে নিয়োগ লাভের অভিযোগে প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডারের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন।
তিনি বলেন, সনদ যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা রুজুর অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। শিগগিরই মামলাগুলো সংশ্লিষ্ট আদালতে দায়ের করা হবে। সরকারি চাকরির মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় জালিয়াতির মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তদন্তে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডারের অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তা হলেন ৩৮তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সঞ্জয় দাস, একই ব্যাচের পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. মুসা ও ৪১তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সুকান্ত কুন্ডু।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, সঞ্জয় দাস জালিয়াতির মাধ্যমে অবতীর্ণ সনদ প্রস্তুত করে তা পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) দাখিল করেন। পরবর্তীকালে সনদ যাচাই করে দেখা যায়, সেটি ভুয়া। এ ঘটনায় দুদক বিধিমালা, ২০০৭-এর ১০(চ) বিধির আওতায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. মুসার বিরুদ্ধেও। তিনি জাল অবতীর্ণ সনদ দাখিল করে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারে নিয়োগ লাভ করেন। যাচাইয়ে সনদ জালিয়াতির প্রমাণ মেলায় তাঁর বিরুদ্ধেও মামলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ৪১তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সুকান্ত কুন্ডুর বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে অবতীর্ণ সনদ প্রস্তুত ও দাখিলের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না হয়েও কোটার মাধ্যমে ২৯তম বিসিএসে ছয়জনকে ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় তৎকালীন পিএসসির সাবেক কর্মকর্তাসহ মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে ২১ জানুয়ারি ছয়টি পৃথক মামলা করে দুদক।
অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন উপসচিব নাহিদা বারিক, রকিবুর রহমান খান ও তোফাজ্জেল হোসেন, পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম, সহকারী পরিচালক হালিমা খাতুন এবং সহকারী অধ্যাপক মিল্টন আলী বিশ্বাস।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়।