হোম > জাতীয়

হাদি হত্যা মামলা: ফয়সালদের গ্রেপ্তারে খুলতে পারে জট

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

হাদি হত্যা মামলার দুই প্রধান আসামি রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার পলাতক প্রধান দুই আসামি ভারতে গ্রেপ্তারের পর তদন্তসংশ্লিষ্টরা তদন্ত নিয়ে নতুন আশা দেখছেন। তাঁরা বলছেন, গ্রেপ্তার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনুদ্ঘাটিত রহস্যের জট খুলবে। হত্যার উদ্দেশ্য ও নেপথ্যের নির্দেশদাতাদের নাম জানা গেলে নতুন মোড়ও আসতে পারে।

এই মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের বিষয়ে নারাজি আবেদনে সঠিক তদন্ত না হওয়ার এবং হত্যার পরিকল্পনাকারী ও ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে মামলাটি বর্তমানে অধিকতর তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগীরকে গত শনিবার গভীর রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স। গত রোববার দুজনকে স্থানীয় আদালত ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠান। তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার তৎপরতা শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ফয়সাল ও আলমগীর গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে এই মামলার রহস্যের জট খোলার বিষয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশ বলছে, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার ও ইনকিলাব মঞ্চের চাপের কারণে ডিবি তাড়াহুড়ো করে এক মাসেরও কম সময়ে এই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত পুরোপুরি না গুছিয়েই অভিযোগপত্র দিতে হয়েছিল। ফলে হত্যার পেছনের মূল উদ্দেশ্য, নেপথ্যের ব্যক্তি এবং এতে কারা লাভবান হয়েছে—এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলাতে পারেননি তাঁরা।

ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওসমান হাদির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়নি। ফলে হত্যার আগে তিনি কোনো হুমকি পেয়েছিলেন কি না, তা যাচাই করা যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ছাড়া ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া কঠিন। হাদির ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে, বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চে তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গেও পর্যাপ্তভাবে কথা বলা সম্ভব হয়নি। প্রধান আসামিরা পলাতক থাকায় অনেক কিছুর সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

সিআইডির তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতে গ্রেপ্তার ফয়সাল ও আলমগীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে। দুজনের কাছ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর কারা জড়িত এবং কীভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ডিবির মতো তদন্তের ক্ষেত্রে তাঁরাও কিছু জটিলতার মধ্যে পড়েছেন। প্রধান দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জটিলতা দূর হবে। মামলার বাকি বিষয়গুলো সামনে এলে হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের হিসাব-নিকাশও বদলে যেতে পারে।

শাহবাগে গতকাল ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে করার জন্য তাঁরা আবেদন করেছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জাতিসংঘকে একটি চিঠি পাঠানোর কথা জানানো হয়েছিল। তিনি চলমান তদন্তের পাশাপাশি নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের বিষয়টিও বিবেচনার জন্য এবং এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সবার সামনে প্রকাশের জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

জানতে চাইলে সিআইডির প্রধান ও পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ছিবগাত উল্লাহ বলেন, ভারতে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে সুষ্ঠু তদন্তে সহায়তা মিলবে।

ফয়সাল-আলমগীরকে ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু

ফয়সাল ও আলমগীরের সঙ্গে কনস্যুলার অ্যাক্সেস বা সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেছে বাংলাদেশ। কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন রোববার এক বিবৃতিতে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়ে কলকাতা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আলী হোসেন ফকির গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরে মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, হাদি হত্যার আসামি ফয়সাল ও আলমগীরকে দেশে আনার বিষয়ে কূটনৈতিকভাবে কাজ চলছে। তাঁদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদিকে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা অবস্থায় গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদি সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। তাঁর মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি ফয়সাল করিম মাসুদ, আলমগীর হোসেন, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ফয়সাল করিম সরাসরি গুলি করেন এবং আলমগীর মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন।

ওই অভিযোগপত্রের বিষয়ে বাদীর নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ১৫ জানুয়ারি সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

অভিযোগপত্রের ১৭ আসামির মধ্যে ফয়সাল করিমের মা-বাবা, স্ত্রী, বান্ধবী ও শ্যালকসহ ১১ এবং অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সিআইডির গ্রেপ্তার করা একজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

অধ্যাদেশের সারসংক্ষেপ চেয়েছে সরকার

ভারত থেকে আসছে ৫ হাজার টন ডিজেল

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা

তেলের প্রধান ডিপোগুলোয় সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ

নেপালের সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সিঙ্গাপুর সফরের আগের দিন সাবেক গভর্নরের পিএস কামরুলসহ দুজনের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

১৫ বছর পর পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনুর মিয়ার চাকরি পুনর্বহাল

কলকাতায় গ্রেপ্তার ফয়সাল ও আলমগীরের সাক্ষাৎ চায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন

জ্বালানি তেলের সরবরাহ পর্যবেক্ষণে বিপিসির মনিটরিং সেল গঠন

পাম্পে তেল নেই, আক্ষেপ নিয়ে ফিরছেন ক্রেতারা