আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১১ আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ এবার আদালতের বারান্দায় গিয়ে ঠেকেছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগে এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
আজ সোমবার ঢাকা-১১ আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই রিট করেন। রিটে ড. কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিত করার পাশাপাশি তাঁর মনোনয়নপত্র কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে।
নাহিদ ইসলামের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা এবং আলী আজগর শরীফী। শুনানি প্রসঙ্গে জহিরুল ইসলাম মূসা বলেন, ‘আমরা রিটটি দাখিল করেছি। আশা করছি, চলতি সপ্তাহেই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এই আবেদনের ওপর শুনানি হবে।’
রিট আবেদনকারীর দাবি অনুযায়ী, ড. এম এ কাইয়ুম বিদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন এবং নির্বাচনী হলফনামায় এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি গোপন করেছেন। বাংলাদেশের সংবিধান ও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না।
আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা বলেন, ‘বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুম ভানুয়াতো নামের একটি দেশের নাগরিক। তিনি হলফনামায় বিষয়টি গোপন করেছেন। তাঁর ওই দেশের পাসপোর্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এখন যেহেতেু আপিলের সময় নেই তাই রিট করা হয়েছে।’ আগামীকাল রিটটি শুনানির জন্য আসবে বলে জানান তিনি।
এর আগে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় নির্বাচন কমিশন ড. এম এ কাইয়ুমের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছিল। তখন থেকেই নাহিদ ইসলাম এবং এনসিপি জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হচ্ছিল। কমিশন থেকে সন্তোষজনক প্রতিকার না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেন।
ড. এম এ কাইয়ুম বর্তমানে বিএনপির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
এর আগে গতকাল দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপনের কারণে কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়া এবং খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন করায় কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর করা লিভ টু আপিল খারিজ হয়ে গেছে। তাঁরা আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।