খাদ্য উৎপাদনে শুধু পরিমাণ বাড়ানোই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির চাহিদা বিবেচনায় নিরাপদ, পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে।
আজ শুক্রবার রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের মিলনায়তনে বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, বিশ্বে খাদ্য-সংকটের পাশাপাশি খাদ্যের গুণগত মান ও পুষ্টি নিশ্চিত করার বিষয়টি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্মের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসছে। চালের পাশাপাশি শাকসবজি ও ফলমূলের প্রতি তাঁদের আগ্রহ বাড়ছে। এ বাস্তবতায় কৃষি উৎপাদনের ধরন ও পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের জোগান বাড়াতে হবে।
কৃষিতে কীটনাশক ও ভারী ধাতুর ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, অধিক ফলনের আশায় অনেক ক্ষেত্রে ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। এর ফলে খাদ্যদূষণের ঝুঁকি বাড়ে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
কৃষির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আমিন উর রশিদ বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কৃষির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগাতে পারলে কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক ও টেকসই খাতে পরিণত করা সম্ভব।
এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান ড. খোন্দকার মো. ইফতেখারুদ্দৌলা।