বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা। তাঁরা বলছেন, দলের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মির্জা ফখরুলের নাম প্রায় নিশ্চিতভাবেই চূড়ান্ত হয়েছে।
আজ রোববার রাতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জ্যেষ্ঠ নেতাদের একজন আজকের পত্রিকাকে জানান, রাষ্ট্রপতির বিষয়টি তারেক রহমানের একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে তাঁকে আগেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে সবকিছু মিলিয়ে মির্জা ফখরুলই রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।
এদিকে এ বিষয়ে আজ সন্ধ্যায় মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং দলের পক্ষ থেকে তাঁকে কিছু বলা হয়নি।
এর আগে আজ সকালে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে বিএনপি। আগারগাঁওয়ে ইসি সচিবালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ইসি ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে। ওই দিন বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে জাতীয় সংসদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে মির্জা ফখরুল যদি একমাত্র বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী হন, তবে সংসদীয় ভোটের প্রয়োজন হবে না এবং তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হতে পারে।
গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। এর পর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী পদটি শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।
এদিকে বঙ্গভবনে মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য গমনের মধ্য দিয়ে এক দশক পর প্রথমবারের মতো বিএনপির মহাসচিবের পদটি ফাঁকা হতে যাচ্ছে। তিনি ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মির্জা ফখরুল ছয়বার কারাবরণ করেন। খালেদা জিয়ার কারাবন্দী ও তারেক রহমান বিদেশে থাকার সময়ে তিনি বিএনপির সবচেয়ে দৃশ্যমান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দলের ভেতরে যে নামগুলো আলোচনায় রয়েছে, তাঁর মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অন্যতম। বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় কাউন্সিলে স্থায়ী নেতৃত্ব নির্বাচনের আগে দলটি শুরুতে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ দিতে পারে।