সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও আধুনিক, সক্ষম ও জনসম্পৃক্ত বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে জনবল বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়ন, নতুন সরঞ্জাম ও অস্ত্র সংগ্রহসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্যোগ মোকাবিলা ও ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার কার্যক্রম আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার বিজিবি সদর দপ্তর পিলখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিজিবি সদর দপ্তরে এটিই মন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়িয়ে তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে বিজিবির সক্ষমতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি পাস হওয়া আধুনিক মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। তবে নতুন ডগ স্কোয়াড গড়ে তুলতে সময় লাগবে। সে পর্যন্ত বিজিবির বিদ্যমান ডগ স্কোয়াডের সহায়তা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বিজিবির জনবল বৃদ্ধি, যানবাহন, বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র সংগ্রহের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে বাহিনীর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।
সাম্প্রতিক বন্যায় বিজিবির ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্গম এলাকায় নৌকাযোগে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং উদ্ধার কার্যক্রমে বিজিবির অংশগ্রহণ দেশব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রমে বাহিনীর ভূমিকা আরও বাড়ানো হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিজিবির প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব বিষয়ে স্বাস্থ্য, অর্থসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে জানান, সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিজিবি সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।