কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সক্ষমতায় দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে আর একমুহূর্তও সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। ভবিষ্যতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে এখনই প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। ডিজিটাল সক্ষমতা ছাড়া রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ঝুঁকিতে পড়বে। এআই ও সাইবার নিরাপত্তায় প্রস্তুত হতে হবে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) সদর দপ্তরে শহীদ প্রকৌশলী ভবনে ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড থ্রেট ইন্টেলিজেন্স’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ইয়ং ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টার’ এই সেমিনারের আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তি নিয়ে শুধু আলোচনা করলে হবে না, এর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবও বুঝতে হবে। ডিজিটাল নলেজ, পাওয়ার অব ইন্টারনেট এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ইকোসিস্টেম থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন রাখার কোনো সুযোগ নেই। এই প্রতিযোগিতার অংশ হতেই হবে।’
বর্তমানে বিশ্বে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অন্যতম প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পৃথিবীর অধিকাংশ উন্নত চিপ উৎপাদন এখন তাইওয়ানের ওপর নির্ভরশীল। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এখন কেবল ব্যবসার বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তিনি বলেন, আগে মনে করা হতো শুধু সামরিক শক্তিই রাষ্ট্রের ক্ষমতা নির্ধারণ করে। এখন প্রযুক্তি, চিপস, ডেটা ও সাইবার সক্ষমতা সেই জায়গা দখল করেছে।
জহির আহমেদ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা প্রোটেকশন, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডিজিটাল অবকাঠামো আগামী দিনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। এসব ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনে বাংলাদেশের তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বিভিন্ন যুদ্ধে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখ করে জহির আহমেদ বলেন, আধুনিক যুদ্ধে ডিজিটাল প্রযুক্তি কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, তা বিশ্ব এখন প্রত্যক্ষ করছে। যদি কোনো রাষ্ট্রের ডিজিটাল সিস্টেম হ্যাক হয়ে যায়, তাহলে তার প্রতিরক্ষা, কৌশলগত সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শুধু ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা এখন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই দেশের শিক্ষা কারিকুলাম, নীতিনির্ধারণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রযুক্তিভিত্তিক জ্ঞানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘সবার সবকিছু হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু খুঁজে খুঁজে মেধাবীদের বের করে এনে তাঁদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এখনই আমাদের সেই বিনিয়োগ করতে হবে।’
প্রযুক্তি খাতে কাজ করা তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ ও নীতিনির্ধারকদের কাছে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং প্রভাব আরও বেশি করে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বাড়াতে সরকারকে সহায়তা করার আহ্বানও জানান তিনি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকৌশলী মো. রেদওয়ান জামান অনিক। স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবি সাধারণ সম্পাদক সাব্বির মোস্তফা খান। আইইবি ইয়ং ইঞ্জিনিয়ার্স চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জেল হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইইবি প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন প্রমুখ।