নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং নৌবহরের ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডে তিনটি ল্যান্ডিং ক্র্যাফট ট্যাংক (এলসিটি) নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত এলসিটি-১০১-এর লঞ্চিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা শিপইয়ার্ড প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এলসিটি-১০১-এর লঞ্চিংয়ের শুভ উদ্বোধন করেন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান। এ সময় সামরিক ও অসামরিক বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপকূলীয় অঞ্চলে সেনা ও নৌবাহিনীর সমন্বিত এফিবিয়াস অপারেশনে ট্যাংক, আর্টিলারি, এপিসিসহ ভারী সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ল্যান্ডিং ক্র্যাফট ট্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে শান্তিকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবিক সহায়তা ও উদ্ধার অভিযানে এসব জাহাজ কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এই প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ডে নিজস্ব সক্ষমতায় এবং কানাডার ভার্ড মেরিন ডিজাইনের প্রযুক্তিগত সহায়তায় এলসিটিগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রতিটি এলসিটি ছয়টি ট্যাংক অথবা ১২টি এপিসি কিংবা ১৮টি সামরিক যান বহনে সক্ষম। এসব জাহাজ নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
আইএসপিআর জানায়, রূপসা নদীর তীরে অবস্থিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড (খুশিলি) বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৯ সালে আর্থিক সংকটের মুখে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে নতুন করে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ ও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুপরিচিত।
জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। উৎপাদনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে ISO-এর নির্দেশনা অনুসরণ করা হয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ল্যাসিফিকেশন সোসাইটি অনুমোদিত সংস্থা বিএভি (BV), ডিএনভি-জিএল (DNV-GL), এনকেকে (NKK), সিসিএস (CCS), এলআর (LR), রিনা (RINA), এবিএস (ABS) প্রভৃতির তত্ত্বাবধানে গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ও নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়ে থাকে।
আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ব্যবস্থাপনা, প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বার্ষিক টার্নওভার, বছরে তিন হাজার টন স্টিলওয়ার্ক সক্ষমতা এবং আট শতাধিক জলযান নির্মাণের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড আজ বাংলাদেশের শিল্প খাতে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড ও অনুসরণযোগ্য আদর্শ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
এ ছাড়া নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অর্জন করেছে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার এবং সবুজায়নের মাধ্যমে ইকো-ফ্রেন্ডলি শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এই স্বীকৃতি লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি।