আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও ধর্ষণ মামলার আসামিকে জামিন দেওয়ার ঘটনায় ব্যাখ্যা দিতে কামরুন্নাহারকে তলব করেছিলেন সর্বোচ্চ আদালত। গত বছরের ১২ মার্চ তাঁকে তলব করা হয়। নির্দেশ অনুযায়ী ২ এপ্রিল আপিল বিভাগে হাজির হয়ে তাঁর ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে সেটি আর হয়নি।
তবে যে মামলায় জামিন নিয়ে কামরুন্নাহারকে তলব করা হয়েছিল, সেটি আজ সোমবার আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ১ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আজ এ বিষয়ে আদেশও দিয়েছেন।
তবে কী আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি। সকালে শুনানির সময় প্রধান বিচরাপতি বলেন, আদেশ দেওয়া হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন জানতে চাইলে প্রধান বিচারপতি বলেন, লিখিত আদেশে পাবেন।
২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর হাতিরঝিল থানায় ধর্ষণের অভিযোগে জনৈক আসলাম সিকদারের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় ২০১৯ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২৫ জুন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ জামিন স্থগিত করেন। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে জামিন স্থগিত থাকার পরও গত বছরের ২ মার্চ ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক কামরুন্নাহার তাঁকে জামিন দেন।
বিষয়টি আপিল বিভাগের নজরে আনেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি আদালতকে বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিতাদেশ থাকার পরও আসামিকে নিম্ন আদালতের জামিন দেওয়া আদালত অবমাননার শামিল। এভাবে জামিন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পরে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ওই মামলার নথি তলব করেন। এরপরই আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার বদরুল আলম ভুইয়া ওইদিন তাৎক্ষণিক মামলার নথি নিয়ে আসেন।
নথি পর্যালোচনা করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ দেখেন, ট্রাইব্যুনালের আদেশে আপিল বিভাগের জামিন স্থগিতাদেশের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এরপরই আপিল বিভাগ বিচারককে তলব করেন।
রাজধানীর বনানীতে রেইনট্রি হোটেলে দুই নারীকে ধর্ষণের মামলায় গত বৃহস্পতিবার পাঁচ আসামির সবাইকে খালাস দিয়ে রায় দেন কামরুন্নাহার। রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, ৭২ ঘণ্টা পর মেডিকেল পরীক্ষা করা হলে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায় না। ওই সময়ের পর ধর্ষণ মামলার এজাহার না নিতেও পরামর্শ দেওয়া হয় পর্যবেক্ষণে। এই পর্যবেক্ষণের পর সারা দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপর তাঁর বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেন সুপ্রিম কোর্ট।