হোম > জীবনধারা > ভ্রমণ

যে কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পর্যটকেরা

ফিচার ডেস্ক

স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি, ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল এবং ঐতিহাসিক রুট ৬৬-এর শতবর্ষ উদ্‌যাপন—সবকিছু মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাতের জন্য ২০২৬ হতে পারত এক ঐতিহাসিক উৎসবের বছর। কিন্তু দীর্ঘায়িত সরকারি শাটডাউন, বিমানবন্দরে প্রায় চার ঘণ্টার দীর্ঘ সারি আর কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বিশ্ব পর্যটকদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের চিরচেনা ‘ওয়েলকাম’ ইমেজ এখন ফিকে হতে শুরু করেছে। এককথায় বলতে গেলে, যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাত এখন এক অদ্ভুত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পর্যটকেরা এখন দ্বিধাবিভক্ত।

আতঙ্ক ও পর্যটকদের অস্বস্তি

বেতন না পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির শত শত টিএসএ কর্মী কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। এর কারণে বিমানবন্দরের সিকিউরিটি লাইনে পর্যটকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে চার ঘণ্টা পর্যন্ত। যদিও সম্প্রতি কর্মীদের বেতন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক মাসের বিশৃঙ্খলার ছবি এবং খবর বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের মনে একধরনের ভীতি তৈরি করেছে। বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকর্মীর ঘাটতি মেটাতে বর্তমানে মোতায়েন করা হয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস এজেন্টদের। বিমানে নিরাপত্তার কাজে এই এজেন্টদের অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেক বিদেশি পর্যটক, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরাও অস্বস্তিতে ভুগছেন। পর্যটকেরা জানাচ্ছেন, আইস এজেন্টরা কখন কাকে আটকে দিচ্ছেন, তার কোনো ঠিক নেই। ভুলে আটক করার পর ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে অনেকের কাছে। বিষয়টি পর্যটকদের মধ্যে আরও বেশি আতঙ্ক তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ফুটবল কিংবা স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদ্‌যাপন সফল হবে কি না, সেটি নির্ভর করছে ওয়াশিংটন কতটা দ্রুত পর্যটকদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে, তার ওপর। পর্যটকেরা দিন শেষে শুধু একটি সুন্দর গন্তব্য নয়, বরং সেখানে ভ্রমণ করার সময় একটু সম্মান আর স্বস্তিও আশা করেন।

পর্যটন সূচকে বড় পতন

ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম ব্যারোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যেখানে সারা বিশ্বে পর্যটক ৪ শতাংশ বেড়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে বড় ধাক্কা এসেছে দেশটির প্রতিবেশী দেশ কানাডা থেকে। সেখান থেকে পর্যটক আসা কমে গেছে প্রায় ২২ শতাংশ। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতিগুলোকে; বিশেষ করে ৪২টি দেশের ভিসামুক্ত পর্যটকদের কাছ থেকে বিগত ৫ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া হিস্ট্রি চাওয়ার প্রস্তাব মনে করিয়ে দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর আগের মতো বন্ধুসুলভ দেশ নয়। এ ছাড়া ইউরোপীয় পর্যটকদের মধ্যে ক্ষোভের মাত্রা একটু বেশি। এমনকি জার্মানির অনেক পর্যটক বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিবাদে তাদের পরিকল্পিত সব ধরনের সফর বাতিল করছেন।

এত নেতিবাচক খবরের মাঝেও আশার কথা বলছে স্থানীয় ট্যুর অপারেটররা। তারা বলছে, বিমানবন্দরে কিছু কিছু সমস্যা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে পরিস্থিতি মোটেও অতটা জটিল নয়। ইউএস ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনও পর্যটকদের ভয় দূর করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

গরমে আরামের ভ্রমণ পাহাড়ে

ভিড় এড়িয়ে অজানার পথে: বিশ্বের সেরা ‘হিডেন জেম’ শহর

পরিবারবান্ধব বিমানবন্দরের শীর্ষে ইনচন

ভ্রমণকালে কেমন জুতা বেছে নেবেন

নারীদের একা ভ্রমণের জন্য নিরাপদ পাঁচ দেশ

সেরা ট্রেন্ডিং গন্তব্যে এশিয়ার পাঁচ শহর

ইচ্ছাশক্তি থাকলে কিছুই অসম্ভব নয়: সাইফুল ইসলাম শান্ত

ভ্রমণ তালিকায় রাখুন ৫ বিনয়ী মানুষের দেশ

ছুটির দিনে সন্তোষপুর

স্বচ্ছন্দে ভ্রমণ করার জন্য যেসব কাজ করতে হবে