ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের এক নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে বিশ্বের শীর্ষ পর্যটন বাজারে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে চীন। দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত বিনিয়োগ এবং লক্ষ্যভিত্তিক সরকারি নীতির কারণে এমনটা সম্ভব হয়েছে বলে জানায় জাতিসংঘের এ প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৫ সালে চীনের পর্যটন খাত আগের বছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এর পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের খরচ ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। বিপরীতে, একই বছর যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৬৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন দাঁড়িয়েছে। চীনের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে কৌশলগত কিছু পদক্ষেপ। দেশটির সরকার ৫০টির বেশি দেশের জন্য ৩০ দিন পর্যন্ত ভিসামুক্ত সুবিধা সম্প্রসারণ করেছে। পাশাপাশি বিমান ও রেল যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন এবং বায়োমেট্রিক সীমান্ত ব্যবস্থার মতো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন আন্তর্জাতিক পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ করে তুলেছে। এ ছাড়া নতুন পর্যটন অঞ্চল, সাংস্কৃতিক আকর্ষণ ও থিম পার্কের বিকাশ দেশটির অর্থনীতিকে আরও বৈচিত্র্যময় ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করেছে।
ডব্লিউটিটিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর চীনের পর্যটন ব্যয় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২৮০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। সঠিক নীতিমালা, উদ্ভাবন এবং অবকাঠামোতে বিনিয়োগ কীভাবে একটি দেশের পর্যটন খাতকে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার জায়গায় নিয়ে যেতে পারে, চীন এখন তারই এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ।