গরমের ক্লান্ত দুপুরে কিংবা কাজের অবসরে কখনো কি ইচ্ছা করেছে, সব কাজ ফেলে একটু পাহাড়ে হারিয়ে যেতে? দূরের বরফ ঢাকা পাহাড় অথবা নীরব কোনো হ্রদের পাশে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে পৃথিবীর সব ক্লান্তি ভুলে যেতে? এমন স্বপ্নের ভ্রমণ যদি সত্যি করতে চান, তবে মে মাসে ঘুরে আসুন নেপালের কয়েকটি গন্তব্য থেকে। জেনে নিন নেপালের ৭টি গন্তব্য সম্পর্কে, যেগুলো মে মাসে ভ্রমণের জন্য আদর্শ।
নেপালের নাম শুনলে প্রথমে যে জায়গার নাম মনে আসে, সেটি হলো পোখারা। হ্রদ আর পাহাড়ের যুগলবন্দী প্রেমময় এই শহর নেপালের সুন্দর শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি অন্নপূর্ণা অঞ্চলে যাওয়ার প্রধান শহর। শহরটিকে হ্রদ, প্যারাগ্লাইডিং এবং ট্রেকিংয়ের জন্য বিখ্যাত বলা যায়। এখানকার শান্ত হ্রদগুলো প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। এখান থেকে বোটিং, আলট্রালাইট ফ্লাইট করা যায়। পাশাপাশি মাছাপুচারে বা ফিশটেইল ও অন্নপূর্ণা পর্বতের অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়।
নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত সুন্দর একটি গ্রাম জোমসম। এটি মুস্তাং অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। এখানকার পাহাড়ি দৃশ্য, গভীর গিরিখাত এবং তিব্বতি সংস্কৃতি পর্যটকদের মুগ্ধ করে। কাছেই রয়েছে কাগবেনি, ধুম্বা লেক এবং আপেলের বাগানের জন্য বিখ্যাত মারফা গ্রাম। জায়গাটিতে পোখারা থেকে ফ্লাইটে যেতে ২৫ মিনিট লাগবে। অথবা ট্রেকিং করেও যাওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে একটু বেশি সময় হাতে রাখতে হবে।
নেপালের চায়ের রাজধানী বলা হয় পূর্ব নেপালের সবুজে ঘেরা ইলামকে। এখানে চা-বাগান ঘুরে দেখার এবং পাহাড়ে হেঁটে বেড়ানোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় লিম্বু ও রাই সম্প্রদায়ের জীবনযাপন সম্পর্কেও জানা যায়। কন্যাম টি গার্ডেন, আন্ত ডান্ডা ও মাই পোখরি এখানকার জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। বাংলাদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ভারতের শিলিগুড়ি সীমান্ত দিয়ে ইলাম যাওয়া সহজ। বিমানে গেলে কাঠমান্ডু থেকে ভদ্রপুর বিমানবন্দরে নেমে, সেখান থেকে বাসে বা গাড়িতে ৩-৪ ঘণ্টায় ইলাম পৌঁছানো যায়।
ট্রেকিংপ্রেমীদের জন্য এটি হতে পারে স্বর্গরাজ্য। লাংটাং ভ্যালিকে বলা হয় হিমালয় উপত্যকা। সেখানে রয়েছে পাহাড়, বিভিন্ন বন্য প্রাণী ও তিব্বতি সংস্কৃতির ছোঁয়া। ট্রেকিংয়ের পথে দেখা মিলতে পারে লাল পান্ডা, রডোডেনড্রন বন ও ইয়াকের চারণভূমি। এখানকার প্রধান আকর্ষণ, কিয়ানজিন গোম্পা, সেরকো রি ভিউ পয়েন্ট, লাংটাং লিরুং হিমবাহ এবং লাংটাং জাতীয় উদ্যান। কাঠমান্ডু থেকে ৭ ঘণ্টার ড্রাইভের পর সায়াব্রুবেসি থেকে ট্রেকিং করে সেখানে যেতে হয়।
এভারেস্ট ট্রেকিং রুটের কেন্দ্র সোলুখুম্বু। এখানে অবস্থিত বিখ্যাত মাউন্ট এভারেস্ট। এটি পূর্ব নেপালের একটি অঞ্চল, যা এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ট্রেক, গোকিং লেকস ট্রেক এবং থ্রি পিসেস ট্রেকের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। শেরপা জনগোষ্ঠীর বৌদ্ধ সংস্কৃতি এবং তেংবেচে মঠ এখানকার বিশেষ আকর্ষণ। কাঠমান্ডু থেকে ফ্লাইটে লুকলার তেনজিং হিলারি বিমানবন্দর পৌঁছে সেখান থেকে যেতে হবে সোলুখুম্বু।
অন্নপূর্ণা অঞ্চলের তিব্বতি সংস্কৃতির একটি গ্রাম এটি। কাছেই রয়েছে মুক্তিনাথ মন্দির। মুস্তাং যাওয়ার পথে, কালি গন্ডকি ও ঝং নদীর মিলনমস্থলে এর অবস্থান। এই গ্রামও তিব্বতি ধাঁচের। প্রাচীন মঠ, পুরোনো স্থাপত্য এবং মরুভূমির মতো পাহাড়ি পরিবেশ জায়গাটিকে দর্শনীয় করে তুলেছে। কাঠমান্ডু থেকে বিভিন্নভাবে কাগবেনি যাওয়া যায়। আকাশপথে যেতে চাইলে প্রথমে কাঠমান্ডু থেকে পোখারা, এরপর ছোট বিমানে জোমসম যেতে হবে। জোমসম বিমানবন্দর থেকে জিপে বা স্থানীয় পরিবহনে এক-দুই ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায় কাগবেনি।
নেপালের হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত একটি অন্যতম বৈচিত্র্যময় জাতীয় উদ্যান মাকালু বরুণ ন্যাশনাল পার্ক। নিরিবিলি ট্রেকিংয়ের প্রতি ভালোবাসা থাকলে এটি হতে পারে আপনার প্রধান গন্তব্য। এখানে রয়েছে বিশ্বের পঞ্চম সর্বোচ্চ পর্বত মাকালু। এখানে শেরপা, রাই ও লিম্বু সম্প্রদায়ের মানুষের বসতি রয়েছে। এখানে দেখা মিলতে পারে সবুজ তৃণভূমি, গভীর গিরিখাত এবং স্নো লেপার্ড বা তুষার চিতা, লাল পান্ডার মতো বিরল স্তন্যপায়ী প্রাণীর।
সূত্র: শেয়ার ট্রিপ