যখন পারলারে দামি ফেশিয়াল এবং ত্বকের নানা রকম ট্রিটমেন্ট আসতে শুরু করল, আর বাড়ির মেয়েরা বলেকয়ে হোক বা লুকিয়ে পারলারে গিয়ে সেসব সেবা নিতে শুরু করল, তখন মা, খালা, দাদি-নানিরা চটে গেলেন স্বাভাবিকভাবে। ত্বকের যত্নে অত কিছু লাগে নাকি! এই কথা সে সময় শোনেননি, এমন তরুণী খুঁজে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। ড্রেসিং টেবিলের সামনে সাজানো তেল, স্নো আর সাধারণ গ্লিসারিনেই ত্বক সন্তুষ্ট রাখার পক্ষে ছিলেন সেই সময়ের মায়েরা। এতকাল পরে এসেও কিন্তু আগেকার দিনের টোটকার আবেদন ফুরিয়ে যায়নি।
এই যেসব বলিউড অভিনেত্রী; আমরা যাঁদের আইকন মানি, তাঁদের রূপ রুটিনে চোখ রাখলে দেখা যায়, ঘরোয়া টোটকাই সেখানে রাজত্ব করছে। কৃতি শ্যাননের কথাই ধরুন। তাঁর মাখন কোমল ত্বকের রহস্য় লুকিয়ে আছে সাধারণ গ্লিসারিনের বোতলে।
একটি সাক্ষাৎকারে কৃতি শ্যানন জানান, ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে গ্লিসারিন। তা ছাড়া এটি অ্যান্টিসেপটিকও। ত্বকে প্রদাহজনিত কোনো ধরনের অস্বস্তি হলেও গ্লিসারিন মাখা যায়। বর্তমানে খুব একটা কদর না থাকলেও ত্বকের ইলাস্টিসিটি বা টান টান ভাব বজায় রাখতে এই উপকরণের বিকল্প আর কিছুই নেই বলে মনে করেন কৃতি।
শীতে কেন গ্লিসারিন ব্যবহার করবেন
শুষ্ক, খসখসে ত্বকে মসৃণ ভাব ফিরিয়ে আনতে গ্লিসারিন ব্যবহার করা হয়। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে, ত্বক নরম ও সতেজ রাখে। নিয়মিত ব্যবহারে নিখুঁত ত্বক পাওয়া যায়। যাঁরা নিয়মিত ত্বকে গ্লিসারিন ব্যবহার করেন, তাঁদের সহজে বলিরেখা পড়ে না। এই প্রসাধনী ত্বকের রোমকূপও পরিচ্ছন্ন রাখে। ত্বকের ফাটা ভাব দূর করতে দারুণ ভূমিকা পালন করে এই গ্লিসারিন। এটি ত্বকে একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা আর্দ্রতা হারানো থেকে বাঁচায় এবং বাইরের দূষণ থেকে রক্ষা করে। এটি ঠোঁট ফাটা এবং কনুই বা গোড়ালির মতো শুষ্ক অংশের যত্নে দারুণ কাজ করে।
যে উপায়ে ব্যবহার করবেন
গ্লিসারিন সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা যায়। একটি বোতলে ২ ভাগ গ্লিসারিন ও এক ভাগ পানি এবং এক ভাগ গোলাপজল মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। এরপর পুরো শীতে সেটা পুরো শরীরে ব্যবহার করতে পারেন। গোসল করার পর প্রতিদিন এই মিশ্রণ মাখতে পারলে ত্বকের জেল্লা ফিরে আসবে।
গ্লিসারিনের নানা ব্যবহার
ক্লিনজার হিসেবে: গ্লিসারিন ত্বক পরিষ্কার করতে খুব ভালো কাজ করে। এ জন্য কিছু কিছু ফেসওয়াশ ও সাবানে গ্লিসারিন ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের পরিষ্কারকগুলো ত্বক শুকিয়ে না ফেলে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। ফেসওয়াশে যদি গ্লিসারিন না থাকে, তাহলে গ্লিসারিনের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে মুখে ম্যাসাজ করে তারপর ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এতে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক লাগবে না।
ফাটা ও শুষ্ক ঠোঁটের যত্নে
ঠোঁটে ব্যবহারের জন্য বহুকাল ধরে গ্লিসারিন ব্যবহার হয়ে আসছে। ঠোঁট ফাটা দূর করতে রাতে ঘুমানোর আগে এবং ঘুম থেকে উঠে গ্লিসারিন ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া লিপ স্ক্র্যাবিংয়ের জন্য গ্লিসারিন খুবই কার্যকরী। চিনির সঙ্গে কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিন মিশিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ম্যাসাজ করলে ঠোঁট ফাটা দূর হবে, ঠোঁট হবে নরম।
হাত ও পায়ের যত্নে
হাত ও পায়ের যত্নে নিয়মিত গ্লিসারিন মাখা ছাড়াও হালকা কুসুম গরম পানিতে আধা চামচ গ্লিসারিন দিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে হাত-পা নরম থাকবে। সেই সঙ্গে চামড়া ওঠা কিংবা গোড়ালি ফাটার মতো সমস্যার সমাধান দেবে এটি। রাতে ঘুমানোর আগে পা ভালো করে ধুয়ে গ্লিসারিন ও অলিভ অয়েলের মিশ্রণ মেখে ঘুমিয়ে পড়ুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে পা ফাটার সমস্যা দূর হবে এবং গোড়ালি হবে মসৃণ।
ফেসপ্যাকেও দিন দুফোঁটা
শীতকালে ফেসপ্যাক তৈরির সময় কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিন মিশিয়ে দিন। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে এবং ত্বকে ছড়িয়ে দেয় উজ্জ্বল আভা।
সূত্র: হেলথ লাইন ও অন্যান্য
কৃতি শ্যাননের ছবি ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া