হোম > জীবনধারা > রূপবটিকা

শরতে শুষ্ক ত্বকের যত্নে বদল আনুন

ফারিয়া রহমান খান 

মডেল: আনিসা। ছবি: মঞ্জু আলম

বর্ষা বিদায় নেওয়ার পর আকাশে শুভ্র মেঘের ভেলা ভাসাল শরৎ। এই ঋতুর দারুণ প্রকৃতি মন চাঙা করলেও শুষ্ক ত্বকের অধিকারীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ সময় আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতা কমতে শুরু করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকে, বিশেষ করে যাঁদের ত্বক জন্মগতভাবে শুষ্ক। এই সময়ে এ ধরনের ত্বকে টান ধরা, খসখসে হওয়া, চুলকানি ও চামড়া ওঠার মতো সমস্যা তীব্র রূপ নেয়।

শরতে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হওয়ার কারণ

কসমেটোলজিস্ট শোভন সাহা বলেন, শরতের বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে। এর ফলে আমাদের ত্বকের প্রাকৃতিক যে আর্দ্রতার স্তর কিংবা স্কিন ব্যালেন্স রয়েছে, তা ব্যাহত হয়। বাইরের শুষ্ক বাতাস ত্বক থেকে অতিদ্রুত পানি শুষে নেয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ট্রান্সএপিডারমাল ওয়াটার লস বলা হয়। সঠিক যত্ন না নিলে এই শুষ্কতা থেকে পরে ত্বকে বলিরেখা এবং লালচে ভাব দেখা দিতে পারে।

শুষ্ক ত্বকের চাই বিশেষ যত্ন

শরতে শুষ্ক ত্বকের সৌন্দর্য এবং স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য নিচের কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে হবে।

জেন্টল বা ক্রিম-বেসড ক্লিনজার ব্যবহার

বর্ষাকালে যে ফোমিং ফেসওয়াশগুলো আমরা ব্যবহার করি, সেগুলো শরতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল পুরোপুরি শুষে নেয়। শোভন সাহা বলেন, এই ঋতুতে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা অতিরিক্ত ফোমিং ক্লিনজার বাদ দিয়ে হাইড্রক্সিল অ্যাসিডমুক্ত, অ্যালকোহলমুক্ত এবং ফেনা তৈরি করে না—এমন ক্রিম-বেসড কিংবা হাইড্রেটিং ক্লিনজার বেছে নেওয়া উচিত।’ এটি ত্বক পরিষ্কার করার পাশাপাশি এর স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়ক।

ভারী ও ঘন ময়শ্চারাইজার ব্যবহার

শরতের স্কিন কেয়ারের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো, একটি ভালো মানের ময়শ্চারাইজার ব্যবহার। হালকা লোশন কিংবা ওয়াটার-বেসড জেল ময়শ্চারাইজারের বদলে এই সময়ে ক্রিম-বেসড বা অয়েল-বেসড ভারী ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। হায়ালুরনিক অ্যাসিড, সিরামাইডস, গ্লিসারিন এবং শিয়া বাটারযুক্ত ময়শ্চরাইজার বেছে নিন। এগুলো ত্বকের গভীরে গিয়ে পানি আটকে রাখাসহ দীর্ঘক্ষণ ত্বক নরম রাখে।

ক্ষতিকর এক্সফোলিয়েশন বা স্ক্রাবিং কমিয়ে আনা

শোভন সাহা জানান, শুষ্ক ত্বকের মরা চামড়া তুলতে অনেকে ঘন ঘন স্ক্রাব ব্যবহার করেন, যা শরতের আবহাওয়ায় ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত স্ক্রাবিং ত্বকের বাইরের প্রতিরক্ষামূলক স্তর বা স্কিন ব্যারিয়ার ভেঙে ফেলে। তাই সপ্তাহে এক দিনের বেশি এএইচএ কিংবা ল্যাকটিক অ্যাসিডের মতো মৃদু কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার না করা ভালো।

সেরাম ও ফেস অয়েলের সংযোজন

রাতে ঘুমানোর আগে স্কিন কেয়ার রুটিনে হায়ালুরনিক অ্যাসিড সেরাম এবং জোজোবা, আরগান বা আমন্ড অয়েলের মতো প্রাকৃতিক ফেস অয়েলের কয়েক ফোঁটা যোগ করতে পারেন। শোভন সাহা বলেন, ‘ময়শ্চারাইজার লাগানোর পর ফেস অয়েল ব্যবহার করলে তা আর্দ্রতাকে ত্বকের ভেতরে লক করে দেয়। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ত্বক সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখায়।’

সানস্ক্রিন বাদ না দেওয়া

অনেকে ভাবেন, শরতের মেঘলা আকাশ বা হালকা রোদে সানস্ক্রিনের কোনো প্রয়োজন নেই। এটি একটি ভুল ধারণা। শরতের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শুষ্ক ত্বক আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং বলিরেখাযুক্ত করে তুলতে পারে। সে কারণে বাইরে বের হওয়ার আগে অন্তত এসপিএফ ৩০ সমৃদ্ধ ময়শ্চারাইজিং সানস্ক্রিন অবশ্যই ব্যবহার করা দরকার।

অভ্যন্তরীণ আর্দ্রতা ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন

শুধু বাহ্যিক যত্ন যথেষ্ট নয়। এ সময় ত্বক ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখা জরুরি। শরতে পানি পানের পরিমাণ কমে গেলে ত্বক শুষ্ক হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা জরুরি। খাদ্যতালিকায় বাদাম, সামুদ্রিক মাছ ও মৌসুমি ফল রাখুন। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরম পানিতে দীর্ঘক্ষণ গোসল এড়িয়ে চলুন। কারণ, গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে।

বর্ষার স্কিন কেয়ার রুটিন দিয়ে শরতের শুষ্কতা মোকাবিলা সম্ভব নয়। তাই ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শুষ্ক ত্বকের সতেজতা ফিরিয়ে আনতে রূপচর্চায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।