বছরের বেশির ভাগ সময় পেয়ারা পাওয়া গেলেও বর্ষাকালে সাধারণত বেশি পাওয়া যায়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পেয়ারার প্রধান মৌসুম। এ সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেয়ারার ফলন হয়। আমাদের দেশে ফল হিসেবে পাকা পেয়ারা এবং এটি দিয়ে জ্যাম ও জেলি খাওয়ার প্রচলন থাকলেও তরকারি রান্না করে খাওয়ার প্রচলন নেই। কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পেয়ারা দিয়ে বিভিন্ন খাবার রান্না করে খাওয়া হয়। এখানে রইল পেয়ারা দিয়ে তৈরি ব্যতিক্রমী একটি পদ—পেয়ারার টক-মিষ্টি তরকারি। এটি ভারতের উত্তরাঞ্চলের কিছু জায়গার স্থানীয় খাবার। এই খাবারে ঝাল, মিষ্টি আর টক স্বাদ পাওয়া যায়।
২ কাপ ছোট টুকরা করে কাটা পেয়ারা, ২ টেবিল চামচ তেল, আধা চা-চামচ করে জিরা ও লাল মরিচের গুঁড়া, ১ চা-চামচের ৪ ভাগের ১ ভাগ করে মেথি দানা ও হলুদগুঁড়া, ২ চা-চামচ ধনেগুঁড়া, ১ চা-চামচ মৌরিগুঁড়া, আধা চা-চামচ লবণ, ১ টেবিল চামচ পাতলা কুচি করা আদা, ১ চা-চামচ লেবুর রস, ২ টেবিল চামচ বা স্বাদ অনুযায়ী চিনি, ২ টেবিল চামচ ধনেপাতাকুচি এবং সম্ভব হলে আধা চা-চামচ আমচুর বা শুকনা আমের গুঁড়া।
একটি সস প্যানে মাঝারি আঁচে তেল গরম করে জিরা, মেথি দানা, মৌরিগুঁড়া, ধনে, হলুদ এবং লাল মরিচের গুঁড়া দিয়ে কয়েক সেকেন্ড নাড়ুন। তারপর আদা ও পেয়ারা দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। সব শেষে ১ কাপ পানি দিয়ে প্যানটি ঢেকে দিন।
এই অবস্থায় মৃদু আঁচে পেয়ারা নরম হয়ে আসা পর্যন্ত রান্না করুন। তারপর আমচুর, লেবুর রস ও চিনি দিয়ে নাড়ুন। এরপর ধনেপাতাকুঁচি ছড়িয়ে দিন। আঁচ বন্ধ করে পাত্রটি কয়েক মিনিটের জন্য ঢেকে রাখুন।
তারপর পাত্র থেকে নামিয়ে পছন্দমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন টক-মিষ্টি পেয়ারার তরকারি। এটি গরম-গরম পুরি বা পরোটার সঙ্গে খেতে ভালো লাগে।
পেয়ারার বীজ শক্ত হলে ফেলে দিন। এ ছাড়া পেয়ারা কতটা মিষ্টি, তার ওপর ভিত্তি করে চিনির পরিমাণ কম-বেশি করে নিতে পারেন।
সূত্র: মান্জুলাস কিচেন