বেলুচিস্তানের খাবারের বৈশিষ্ট্য হলো সরলতা। অতিরিক্ত মসলা বা জটিল রান্নার কৌশলের বদলে এখানকার রন্ধনশৈলীতে গুরুত্ব পায় ভালো মানের উপকরণ, ধীর আঁচে রান্না এবং দেশি ঘিয়ের অনন্য সুবাস। বেলুচি ডাল তারই এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ছোলার ডাল, কয়েকটি গোটা মসলা এবং ঘি দিয়ে তৈরি এই পদ স্বাদে যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি রান্নাও সহজ।
খাদ্য ইতিহাসবিদদের মতে, গরম ঘিতে মসলা ফোড়ন দিয়ে পরে তা ডালের সঙ্গে মেশানোর যে কৌশল, যা আজ ‘তড়কা’ নামে পরিচিত, তার উল্লেখ প্রাচীন সংস্কৃত রন্ধন গ্রন্থেও পাওয়া যায়। বেলুচিস্তানে এই পদ্ধতিকে আরও সংযতভাবে ব্যবহার করা হয়। পাঞ্জাবি রান্নার তুলনায় এখানে মসলার পরিমাণ কম, ফলে প্রতিটি উপকরণের স্বাদ আলাদা অনুভব করা যায়।
২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা ছোলার ডাল ২৫০ গ্রাম, পাতলা কুচি করা মাঝারি আকারের পেঁয়াজ ২ টি, কুচি করা মাঝারি আকারের টমেটো ২ টি, আদা-রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ, হালকা ভাঙা গোলমরিচ ৬ টি, ভেঙে দেওয়া বড় এলাচি ২ টি, জিরা ১ চা-চামচ, হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ, লাল মরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, দেশি ঘি ৩ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো এবং সাজানোর জন্য কুচি করা ধনেপাতা ২ টেবিল চামচ।
ভিজিয়ে রাখা ছোলার ডাল ধুয়ে একটি পাত্রে ৭৫০ মিলিলিটার পানি, হলুদ ও লবণ দিয়ে বসান। ফুটে উঠলে ওপরে জমা ফেনা তুলে ফেলুন। এরপর ঢেকে কম আঁচে ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট রান্না করুন। ডাল নরম হবে, তবে একেবারে গলে যাবে না—এমনভাবে সেদ্ধ করুন।
ভারী তলার একটি প্যানে দেশি ঘি গরম করুন। জিরা, বড় এলাচি ও ভাঙা গোলমরিচ দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ভেজে নিন। এরপর পাতলা কাটা পেঁয়াজ গাঢ় সোনালি রঙে ভেজে নিন। এই ধাপ বেলুচি ডালের স্বাদ তৈরিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আদা-রসুনবাটা দিয়ে দুই মিনিট নেড়ে নিন। এরপর টমেটো ও লাল মরিচের গুঁড়া যোগ করুন। টমেটো নরম হয়ে তেল আলাদা হওয়া পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ মিনিট কষিয়ে নিন। রান্নার সময় টমেটো হালকা চেপে ভেঙে দিন।
সেদ্ধ করা ছোলার ডাল মসলার সঙ্গে মিশিয়ে কম আঁচে আরও ১০ মিনিট রান্না করুন। এতে ডাল মসলার স্বাদ ভালোভাবে শুষে নেবে। প্রয়োজনে সামান্য গরম পানি দিয়ে ঘনত্ব ঠিক করে নিন।
স্বাদমতো লবণ ঠিক করে নিন। ডাল হবে ঘন, তবে সহজে ঢেলে পরিবেশন করা যায় এমন। ওপর থেকে কুচি করে রাখা ধনেপাতা ছড়িয়ে গরম-গরম পরিবেশন করুন।
সূত্র : পাকিস্তানি ডট রেসিপি