বাড়িতে শিশু থাকলে প্রায়ই কলা কেনা হয়। কিন্তু বেশি কিনলে অনেক সময় গরমে দ্রুত পেকে যায়। বেশি পেকে যাওয়া কলা শিশু খেতে না চাইলে তৈরি করে ফেলুন মজাদার সব নাশতা। এসব খাবার খেতে দারুণ তো হয়ই, পাশাপাশি পুষ্টিকরও।
অতিরিক্ত পাকা কলা দিয়ে যে খাবারগুলো তৈরি করা যেতে পারে—
এক বছরের বেশি বয়সের শিশুদের সকালের নাশতা বা বিকেলের স্ন্যাকস পর্বে স্মুদি দেওয়া যেতে পারে। ব্লেন্ডারে পাকা কলা, এক কাপ দুধ এবং কয়েকটি কাঠবাদাম বা কাজুবাদাম একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিয়ে শিশুকে খেতে দিন। এটি ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করবে। কলার স্মুদি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং গরমের দিনে শিশুকে দারুণ সতেজতা দেয়।
ছয় মাস বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য একটি চমৎকার সকালের নাশতা। প্রথমে প্যানে সামান্য ঘি দিয়ে সুজি বা ওটস ভেজে নিন। এবার পানি বা দুধ ফুটিয়ে নিন। নামানোর আগে বেশি পাকা কলা ভালো করে চটকে এর সঙ্গে মিশিয়ে দিন। কলার মিষ্টি স্বাদের কারণে এই খাবারে বাড়তি চিনি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
দুই বা তিন বছর শিশুর সকালের নাশতা হিসেবে প্যানকেক দারুণ খাবার। খেতে সুস্বাদু আবার শরীরের জন্যও ভালো। একটি বাটিতে বেশি পাকা কলা ভালো করে ম্যাশ করে নিন। এর সঙ্গে একটি ডিম, সামান্য দুধ, কয়েক চামচ ময়দা বা ওটসের গুঁড়া মিশিয়ে ঘন ব্যাটার তৈরি করুন। এবার প্যানে সামান্য মাখন বা ঘি ব্রাশ করে ছোট ছোট প্যানকেক বানিয়ে হালকা আঁচে ভেজে নিন। এটি তুলতুলে নরম হওয়ায় এ বয়সী শিশুরা সহজে চিবিয়ে খেতে পারে।
যেসব শিশু একটু পাতলা বা নরম খাবার পছন্দ করে, তাদের জন্য সাবুদানার পায়েস খুব উপকারী। সাবুদানা ভালো করে ধুয়ে পানিতে সেদ্ধ করে নিন। এটি স্বচ্ছ হয়ে এলে চুলার আঁচ বন্ধ করে দিন। এবার হালকা গরম থাকা অবস্থায় চটকানো পাকা কলা এবং শিশুর খাওয়ার উপযোগী দুধ মিশিয়ে নিন। এটি শিশুর ওজন বাড়াতে এবং তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
ছয় মাসের নতুন খাবার শুরু করা শিশুর জন্য একদম উপযুক্ত। আপেলের খোসা ছাড়িয়ে ছোট টুকরা করে সামান্য পানিতে সেদ্ধ করে নিন। এবার সেদ্ধ আপেল ও বেশি পাকা কলা একসঙ্গে ব্লেন্ডারে বা চামচ দিয়ে ভালো করে চটকে একদম মসৃণ পিউরি তৈরি করুন। এই পিউরি শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
পাকা কলা এবং দুধ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। এর সঙ্গে যোগ করুন চালের গুঁড়া। আরও একবার ব্লেন্ড করে নিন। এর সঙ্গে পরিমাণমতো পানি বা বাড়তি দুধ যোগ করে নিন। মিশ্রণটি হবে মসৃণ ও দলাহীন। সবশেষে যোগ করুন স্বাদমতো লবণ। মিশ্রণটি খুব পাতলা বা খুব ঘন হবে না। চুলায় ডুবো তেলে ডালের চামচের এক চামচ করে এই মিশ্রণ দিয়ে বাদামি করে ভেজে তুলে ফেলুন। ৫ বছর বয়স থেকে সব বয়সী শিশুরাই এটি খেতে পারবে।
পাকা কলা মিক্সচারে ঘুরিয়ে নিন। যোগ করুন ওটস ও পিনাট বাটার। মিশ্রণটি গোল ও চ্যাপ্টা করে বেকিং ট্রেতে সাজিয়ে বেক করে নিন। তৈরি হয়ে যাবে শিশুর খাওয়ার উপযোগী স্বাস্থ্যকর কুকি।
জেনে রাখা ভালো
অতিরিক্ত পাকা কলায় কোনো ফাঙ্গাস বা পচন ধরেছে কি না, তা ব্যবহারের আগে অবশ্যই নিশ্চিত হয়ে নিন।
এক বছরের কম বয়সী শিশুদের খাবারে চিনি বা মধু যোগ করা থেকে বিরত থাকুন, পাকা কলার নিজস্ব মিষ্টিই যথেষ্ট।
শিশুর নতুন কোনো খাবারে অ্যালার্জি আছে কি না, তা বুঝতে প্রথমে অল্প পরিমাণে খাওয়ান।
সূত্র: অল রেসিপিস