হোম > জীবনধারা > মানসিক স্বাস্থ্য

পুরুষের চেয়ে বেশি ঘুমাচ্ছেন নারীরা, অভিযোগ তবু তাঁদেরই বেশি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: এরিক অদ্রাস

নারীরা তুলনামূলকভাবে ভালো ঘুমালেও নিজেদের ঘুমের মান নিয়ে পুরুষদের চেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমনই এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের গবেষকদের পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘স্লিপ অ্যাডভান্স’-এ।

গবেষণায় প্রায় ৫০০ মানুষের ঘুমের সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং শরীরের নড়াচড়ার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাঁরা নিজেদের ঘুমের মান কেমন বলে মনে করেন। ফলাফলে দেখা যায়—নারীরা গড়ে পুরুষদের তুলনায় নিজেদের ঘুমকে খারাপ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তবে পরিমাপ করা তথ্য বলছে, তাঁরা আসলে পুরুষের চেয়ে বেশি ভালো ঘুমিয়েছেন।

গবেষণাটির অন্যতম লেখক অধ্যাপক টরবইয়র্ন ওকেরস্টেড বলেন, এটি এক ধরনের ‘বিরোধাভাস’। তাঁর মতে, পুরুষেরা রাতে অল্প সময়ের জন্য জেগে ওঠার ঘটনাগুলো অনেক সময় টের পান না বা পরে মনে রাখতে পারেন না। ফলে তাঁরা নিজেদের ঘুমকে বাস্তবের তুলনায় বেশি ভালো বলে মনে করেন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নারীরা রাতে কতবার জেগে উঠেছেন, সেই বিষয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি সঠিক ধারণা দিতে পেরেছেন। বিপরীতে পুরুষেরা সাধারণত জেগে ওঠার সংখ্যা কম বলে অনুমান করেছেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে জেগে ওঠার সময়কাল কম হলে তাঁরা সাধারণত ঘুমের মানকে ভালো বলে মূল্যায়ন করেছেন। অন্যদিকে নারীরা জেগে ওঠার সময় যতই কম হোক না কেন, ঘুমের মান সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে নেতিবাচক মত দিয়েছেন।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী ও পুরুষের ঘুমের পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে গভীর ঘুমের পরিমাণ কমে যায় এবং প্রতি ঘণ্টায় জেগে ওঠার হার বাড়ে। নারীদের ঘুমের মানও কিছুটা খারাপ হয়, তবে তুলনামূলকভাবে কম। তবুও তাঁরা নিজেদের ঘুম নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতে থাকেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যে ২ হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ মানুষ রাতে নানা চিন্তার কারণে ঘুমাতে পারেন না। নারীদের মধ্যে ৭৭ শতাংশ অনিদ্রার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৬২ শতাংশ। মানসিক চাপ, আর্থিক উদ্বেগ, কাজের চাপ এবং সামাজিক উৎকণ্ঠাকে খারাপ ঘুমের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ জীবনের অন্যতম ভিত্তি হলো পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা থাকলে শরীরে প্রদাহ, ওজন বৃদ্ধি, হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ঘুমের বিষয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতি ও বাস্তব শারীরিক অবস্থার মধ্যে পার্থক্য বোঝার গুরুত্বও নতুন গবেষণাটি সামনে নিয়ে এসেছে।

ঈদের ছুটির পর ফিটনেস রুটিনে ফিরতে যোগব্যায়াম

দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার কৌশল

শিশু যৌন নির্যাতনকারীরা পেডোফিলিয়া নামের একটি মানসিক রোগে আক্রান্ত

মস্তিষ্কের বার্ধক্য ঠেকানোর ৩ উপায়

মায়ের সঙ্গে নিরাপদ সম্পর্ক মানে নিরাপদ জীবন

জানেন কি, পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে বিষণ্নতার মূল কারণ

দাম্পত্য সম্পর্কে সবকিছু জানতে চাওয়া, ভালো না খারাপ

মন যখন কাঁদে, শরীর তখন কেমন থাকে

পাহাড়ে গিয়ে সঙ্গীকে ত্যাগ—আবারও আলোচনায় ‘অ্যালপাইন ডিভোর্স’

ভেঙে না পড়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করবেন যেভাবে