আপনার কোনো বন্ধু, পরিবারের কেউ কিংবা কাছের কোনো মানুষ কি আপনার সঙ্গে রহস্যময় আচরণ করছে? কখনো খুব আন্তরিক, আবার পরক্ষণেই বরফের মতো ঠান্ডা, এমন আচরণ হতে পারে। মাঝে মাঝে আপনার মনে হতে পারে কেউ আপনাকে এড়িয়ে চলছে কিংবা আপনার উপস্থিতিকে পাত্তাই দিচ্ছে না। মানুষের অবচেতন মন কিছু সূক্ষ্ম সংকেত দেয়, যা থেকে বোঝা সম্ভব যে সে আপনাকে গোপনে অপছন্দ করে। পৃথিবীর সবার কাছে প্রিয় হওয়া সম্ভব নয়। যখন আপনি বুঝতে পারবেন কেউ আপনাকে অপছন্দ করছে, তখন সেখানে জোর করে উষ্ণতা খুঁজতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ, যার আপনাকে প্রয়োজন নেই, তাঁকে আপনারইবা কেন প্রয়োজন হতে হবে?
শারীরিক ও মানসিক দূরত্ব বজায় রাখা
কেউ আপনাকে অপছন্দ করলে সে আপনার থেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে দূরে থাকার চেষ্টা করবে। পার্টি বা সামাজিক অনুষ্ঠানে তারা গ্রুপের অন্য সবার সঙ্গে কথা বললেও আপনাকে এড়িয়ে চলবে। আপনি ঘরে ঢুকলে তারা হয়তো ঘরের অন্য প্রান্তে চলে যাবে।
কৃত্রিম হাসি
আসল হাসি চেনা যায় চোখের চারপাশের পেশির কুঁচকানো দেখে। যে হাসির দৈর্ঘ্য ঠোঁট থেকে চোখ অবধি। কিন্তু কেউ যখন আপনাকে অপছন্দ করে, তার হাসি হয় যান্ত্রিক। ঠোঁট নড়লেও চোখে কোনো উষ্ণতা থাকে না। তারা অন্যের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রাণবন্ত থাকলেও আপনার দিকে তাকানোর সময় কেবল একটি নামমাত্র হাসি দেয়। এই ‘মেকানিক্যাল’ হাসি আসলে প্রকৃত অনুভূতির অভাব ঢেকে রাখার একটি চেষ্টা।
সংযোগের ছোট মুহূর্তগুলো এড়িয়ে চলা
পছন্দের মানুষের সঙ্গে আমরা ছোট ছোট কথা বলে বা মাথা নেড়ে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করি। কিন্তু কেউ অপছন্দ করলে এই সূক্ষ্ম আচরণগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তারা আপনাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় হ্যালো বলবে না। এমনকি আপনার অভিবাদন শুনলেও না শোনার ভান করবে। তারা ছোট ছোট উত্তর দিয়ে কথোপকথন দ্রুত বন্ধ করে দিতে চায়।
কথা বলার ধরনে পরিবর্তন
মানুষের গলার স্বর বা টোন অনেক কিছু বুঝিয়ে দেয়। লক্ষ করবেন, ওই ব্যক্তি অন্যদের সঙ্গে যেভাবে কথা বলছে, আপনার সঙ্গে বলার সময় তার স্বর একদম ফ্ল্যাট বা অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিক হয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে কেবল আপনার কথা বলার সময় তাদের স্বরে এক ধরনের কর্কশতা ফুটে উঠতে পারে। স্বরের এই পরিবর্তন আপনার প্রতি তাদের অনীহার স্পষ্ট ইঙ্গিত।
আপনার প্রতি কৌতূহলহীনতা
মানুষ যাকে পছন্দ করে, তার সম্পর্কে জানতে চায়। কিন্তু যে আপনাকে অপছন্দ করে, সে আপনার ব্যক্তিগত কোনো বিষয়েই আগ্রহ দেখাবে না। আপনি নিজের দিনের কোনো বিশেষ ঘটনা শেয়ার করলে তারা হয়তো দ্রুত প্রসঙ্গ পাল্টে ফেলবে। কথোপকথন সব সময় তাদের নিজের গল্প আর জগৎ নিয়ে আবর্তিত হবে। আপনার কথা সেখানে গুরুত্ব পাবে না।
বিরক্তির সূক্ষ্ম বহিঃপ্রকাশ
যখন আপনি কথা বলেন, তখন তাদের মুখে বিরক্তির কিছু ছাপ ফুটে উঠতে পারে। যেমন: চোয়াল শক্ত হওয়া, মুখ বাঁকানো কিংবা নাক দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলা। তারা হয়তো খুব দ্রুত আপনার কথা শেষ করার জন্য বাধা দেবে। অথবা ‘যাই হোক’ বলে আলোচনা থামিয়ে দিতে চাইবে। শরীরের এই সূক্ষ্ম প্রতিক্রিয়াগুলো অবচেতন মন থেকে আসে।
সুপরিকল্পিত বর্জন বা এক্সক্লুশন
সব সময় অপমান সরাসরি হয় না। কেউ আপনাকে অপছন্দ করলে সে হয়তো অন্যদের সঙ্গে লাঞ্চে যাওয়ার সময় আপনাকে ডাকতে ‘ভুলে’ যাবে। সবার সঙ্গে তথ্য শেয়ার করলেও আপনাকে জানাবে সবার শেষে। এই ছোট ছোট বর্জনগুলো আসলে আপনাকে সেই বৃত্ত থেকে সরিয়ে রাখার একটি নীরব কৌশল।
ঈর্ষা এবং সাফল্যে নীরবতা
পছন্দের মানুষের সাফল্যে বন্ধুরা আনন্দ প্রকাশ করে। কিন্তু অবদমিত ঘৃণা থাকলে তারা আপনার অর্জনে কোনো উৎসাহ দেখাবে না। বড় কোনো অর্জনের কথা শুনে তারা হয়তো একটা দায়সারা ‘ভালো’ বলবে বা সঙ্গে সঙ্গে প্রসঙ্গ পাল্টে নিজের কোনো দুঃখের গল্প শুরু করবে। ঈর্ষা থেকে তারা আপনার সাফল্যকে খাটো করে দেখার চেষ্টাও করতে পারে।
সব সময় ব্যস্ততার অজুহাত
আমরা যার মূল্য বুঝি, তার জন্য সময় বের করি। কিন্তু কেউ যদি সব সময় আপনার প্রয়োজনে বা আপনার সঙ্গে সময় কাটাতে ব্যস্ততার অজুহাত দেয়, তবে বুঝতে হবে সে আপনাকে এড়িয়ে চলছে। বিশেষ করে তারা যদি অন্যদের জন্য ঠিকই সময় বের করতে পারে কিন্তু আপনার বেলায় ‘অজুহাত’ দেয়, তবে বিষয়টি পরিষ্কার।
এই সংকেতগুলো চিনে নিয়ে আপনি নিজের মানসিক শক্তি সাশ্রয় করতে পারেন এবং যারা আপনাকে সত্যিই মূল্যায়ন করে, তাদের দিকে মন দিতে পারেন।
সূত্র মিডিয়াম, দ্য এক্সপার্ট এডিটর, পালস নাইজেরিয়া