হোম > জীবনধারা > ফিচার

বয়স ৫০-এর পর ফিট থাকতে চাই মনের জোর

অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া

ছবি: পেক্সেলস

শাড়ি পরার সময় আয়নার দিকে তাকাতেই যেন বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। কী আপনি কী হয়ে গেছেন—এ কথা ভাবছেন নিশ্চয়ই। মেঘে মেঘে বেলা তো কম হয়নি, বয়স পেরিয়েছে ৫০-এর কোঠা। প্রাকৃতিক নিয়মে শারীরিক গঠনে পরিবর্তন তো আসারই কথা।

ফিট থাকার জন্য প্রায় প্রতিদিনই ভাবেন সকালে উঠে হাঁটতে বের হবেন, যোগাসন করবেন, কিন্তু কিছুতেই তা আর হয়ে উঠছে না, কেমন যেন অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন দিনকে দিন। রান্না ও ঘরের কাজ করার জন্যও সহযোগী রেখেছেন। ফলে রোজকার অভ্যাসের কাজকর্ম না থাকার ফলে নানান রোগ ঘিরে ধরতে শুরু করেছে। বয়সজনিত হাঁটুর ব্যথা তো বটেই, এখন রাস্তায় বেরিয়ে সামান্য হাঁটলে বা সিঁড়ি ভেঙে উঠতেই যেন হাঁপিয়ে যাচ্ছেন।

আসলে এত দিন নিয়ম করে হাঁটাচলা ও ঘরের কাজকর্ম নিজে করার কারণে হয়তো রোগবালাই আপনার শরীরে জেঁকে বসতে পারেনি কিংবা কোলেস্টেরলও ছুঁতে পারেনি আপনাকে। কিন্তু শরীরচর্চা ও ঘরের নিয়মিত কাজ না করতে করতে সেই রোগগুলো হতে পারে। তার ওপর বাতের ব্যথা, গা-হাত-পায়ে ব্যথা তো এই বয়সের চিরকালের শত্রু। বয়স বাড়তে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই আপনি আগের মতো সক্ষম থাকবেন না। শারীরিক ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকবেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও আপনাকে সচল থাকার চেষ্টা করতে হবে। কারণ, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা অনেকটা এর ওপর নির্ভরশীল।

বাড়াতে হবে মনের জোর

‘ইচ্ছা করছে না’ ব্যাপারটাকে যত গুরুত্ব দেবেন, ততই শরীরে রোগ বাসা বাঁধবে। মনে মনে নিজেকে বলুন, ‘আমি যত সচল থাকব, ততই সুস্থ থাকব।’ সকাল বা বিকেল, নিজের সুবিধা অনুযায়ী দিনের যেকোনো একটা সময় হাঁটার জন্য বের করে নিন। একা হাঁটতে খারাপ লাগলে পাড়ার কোনো সঙ্গী-সাথি জোগাড় করে নিতে পারেন। নিয়ম করে রোজ ২০-২৫ মিনিট হাঁটতে পারলে অনেকটা সচল থাকতে পারবেন। ছাদ থাকলে ছাদেও নিয়ম করে হাঁটতে পারেন।

সক্রিয় থাকার জন্য বাড়ির হালকা বাজার করা বা টুকটাক ঘরের কাজের দায়িত্ব নিয়ে নিন, মাঝেমধ্যে রান্নাবান্নাও করতে পারেন। বাড়ির ছোটরা আপনাকে কাজ করতে না-ও দিতে পারে, তবে আপনি শুয়ে-বসে কাটালেই বরং বিপদ বেশি। কোনো কাজ না করে পুরোপুরি বসে থাকা কিন্তু শরীরের ক্ষতি করে।

ধরুন কেউ আগে নিয়ম করে জগিং করতেন। বয়স বাড়ার ফলে সেসব হয়তো করা সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে দমে যাবেন না; বরং যে ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজগুলো করতে পারছেন, সেগুলো রুটিন মেনে করে যান। যোগাসন যেকোনো বয়সে খুব উপযোগী, তাই সহজ কিছু যোগাসন বেছে সেগুলো ঘরেই করতে পারেন।

এসবের পাশাপাশি ফিট ও কর্মক্ষম থাকতে নিজের শখের দিকে নজর দেওয়া দরকার। বাগান করতে ভালোবাসলে এবার সেই ভালোবাসা কাজে পরিণত করুন। অন্য কোনো শখ, যা আপনাকে সক্রিয় থাকতে সাহায্য করবে, সবকিছুই নিশ্চিন্তে করতে পারেন।

নিজের ছোটখাটো দৈনন্দিন কাজগুলোর জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল হবেন না। নিজে সেগুলো করুন। দেখবেন, নিজের কাজ নিজে করলে মনে বাড়তি আত্মবিশ্বাস আসে। আর এভাবেই শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকবেন।

লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সেলর ও সাইকোথেরাপি প্র‍্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার বিডি

ষষ্ঠী থেকে দশমী ছড়িয়ে থাক ভালোবাসার অনুভব

৯০ দশকের মোহ কেন আমাদের কাটছে না

পচা দাঁত থেকে ব্লুটুথ! জেনে নিন এর পেছনের হাজার বছরের পুরোনো গল্প

কেন অনামিকাতেই আংটি পরা হয়? জানুন বিয়ের আংটির অজানা ইতিহাস

‘পোক’ দিবস, ভুল জানলেও সঠিক ইতিহাসটি জেনে নিন

পূজার আগে ঘর ডিপ ক্লিনের কথা ভাবছেন? যেভাবে শুরু করতে পারেন এখন থেকেই

এলিফ্যান্ট বার্ড: যার ডিম সাগর ডিঙিয়ে পাড়ি দিয়েছিল হাজার মাইল

সিনেমা হলে আমরা কেন পপকর্ন খাই, জেনে নিন তার গল্প

পর্তুগালের অদ্ভুত ৬ গ্রামে পাথরের তৈরি ঘর

হোটেল থেকে সবচেয়ে বেশি চুরি হয় তোয়ালে? কারণ জেনে নিন