হোম > জীবনধারা > ফিচার

‘নিজের মতো সময়যাপন’ বা ‘মি টাইম’ প্রয়োজন যে কারণে

ফিচার ডেস্ক

ছবি: পেক্সেলস

ভাবুন তো, যাঁর নিজের পাত্রই শূন্য, তিনি সেখান থেকে অন্যদের পাত্র কী করে পানিতে পূর্ণ করবেন? তাই অন্যকে ভালো রাখার প্রথম শর্ত হচ্ছে—নিজেকে ভালো রাখা। সে জন্য ‘মি টাইম’ বের করাটা জরুরি। অর্থাৎ, নিজের মতো সময় কাটানোর অবকাশ পেতে হবে। ক্যারিয়ার সামলানোর পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুত্বের সম্পর্কগুলোকে সময় দিতে হয়, কিন্তু এসবের মাঝে নিজেকে ভুলে গেলে সর্বনাশটা নিজেরই।

কাজের ফাঁকে মেশিনকেও মাঝে মাঝে বিশ্রাম দিতে হয়, ব্যাটারি চার্জ করতে হয়। আমাদের শরীর, মস্তিষ্ক ও মনের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা কিন্তু ভিন্ন নয়। কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলে প্রয়োজন বিশ্রামের। এই বিশ্রাম শরীর, মন ও মস্তিষ্ক—সবকিছুরই। এতে নতুন উদ্য়ম ফিরে পাওয়া যায়। মি টাইম কতটা কাটাবেন, তা নির্ভর করে চাকরি বা কাজের ধরন, পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও তাঁদের জন্য কতটা সময় বরাদ্দ রয়েছে, ঘরের কাজ ও আরও নানান বিষয়ের ওপর।

মি টাইম কতটা কাটাবেন

কার কতটা সময় নিজের মতো কাটানো প্রয়োজন, তা কেবল তিনি নিজেই নির্ধারণ করতে পারেন। প্রথমেই মনে রাখা ভালো, মি টাইম মানে কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা নয়। বরং কাজের ফাঁকে ১০ মিনিট বিরতি নিয়ে এক কাপ চা পান করতে করতে একটা গান শুনলেন অথবা বাসা থেকে বেরিয়ে একটু হেঁটে এলেন। এতে মনটাও চনমনে হয়ে উঠবে। পরিবার বা সংসারের নানান কাজকর্ম করতে করতে অনেক সময় জীবন একঘেয়ে হয়ে পড়ে, তখন এভাবে খানিকটা সময় কাটালে জীবনে নতুন করে ছন্দ ফিরে আসে। বই পড়া, গান শোনা, বাগান করা বা আপনি মানসিক তৃপ্তি খুঁজে পান—এমন কোনো কাজ করে সময় কাটালে মনের ক্ষতও কিন্তু কিছুটা হলেও সেরে ওঠে। তাই পরিবারের অন্যদের পাশাপাশি নিজের ভালো লাগাগুলোকেও গুরুত্ব দিন।

রান্না ও শরীরচর্চায়ও থাকুক একান্ত সময়

বাড়ির প্রত্য়েকে কী খায় না খায়, সে সম্পর্কে আপনার পুরো মনোযোগ। একদিন নিজের পছন্দের খাবারও তৈরি করুন। এতে অপরাধবোধের কিছু নেই। এতে পাতে যেমন ভিন্নতা থাকবে, তেমনি সবার পাশাপাশি নিজের ভালো লাগাকে গুরুত্বও দেওয়া হবে। এ ছাড়া দিনের একটা ভাগে কোনো একটা সময় বেছে নিন শরীরচর্চা করার জন্য। চাইলে জিমেও ভর্তি হতে পারেন। শরীরচর্চা করা মানে নিজের জন্য, শুধুই নিজের ভালো থাকার জন্য কিছু করা। এই অভ্যাসটা যদি তৈরি করে ফেলতে পারেন, কোয়ালিটি মি টাইম কাটানোর ক্ষেত্রে আপনি কিন্তু বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে গেলেন।

একান্ত সময়ে নিজের যত্ন

বাড়িতে থাকলেও ফিটফাট থাকুন সব সময়। সম্ভব হলে মাঝে মাঝে লম্বা সময় নিয়ে স্নান করুন। সুগন্ধি মোমবাতি, প্রিয় এসেনশিয়াল অয়েল আর পছন্দের মিউজ়িক—সবই থাকবে এ সময়টায়। অবসরে বন্ধুদের সঙ্গে ফোনে বা চ্যাটে আড্ডা মারুন মন খুলে। বাড়ির অন্যদের বলে দিন, সেই সময়টুকু যেন খুব দরকার না পড়লে আপনাকে না ডাকেন। যদি কারও সঙ্গে কোনো কথা বলতে ইচ্ছে না করে, তাহলে বারান্দায় বা ছাদে খানিকটা দাঁড়িয়ে আকাশ দেখুন। ফুল-পাতারা কেমন আছে, হাতে ছুঁয়ে তা পরখ করুন। এ সময়টায় বাড়ির সবাইকে বলুন, প্রয়োজন ছাড়া আপনাকে না ডাকতে।

সবশেষে যা বলার, তা হলো—মি টাইম কাটানো নিয়ে কোনো অপরাধবোধে ভুগবেন না। আমাদের প্রত্যেকেরই একচিলতে জায়গা থাকা প্রয়োজন, যা শুধুই নিজের। তার মানে এই নয় যে—আপনি অন্যদের অবহেলা করছেন। এর মানে আপনি অন্য সবার পাশাপাশি নিজের প্রতিও যত্নশীল। আর এই সময়টুকু জীবনে নতুন উদ্য়ম ফিরিয়ে আনতে দারুণ ভূমিকা রাখে।

সূত্র: ডিরেকশন সাইকোলজি ও অন্যান্য

দীর্ঘায়ু চাইলে দক্ষিণ কোরীয়দের যেসব অভ্যাস ও খাবারে জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

অল্প নয়, বেশি সময় ধরে হাঁটুন

বদলে যাওয়া সময়ে পরিবারের সঙ্গে বন্ধন অটুট রাখুন

কেন সবাই খুঁজছেন ‘কালিনারি ক্লাস ওয়ার্স’ শেফদের?

আপনার অস্থিরতার গভীরে লুকিয়ে থাকা আসল আবেগটি চিনুন

আপনি কি জীবনের ডার্ক নাইট কাটাচ্ছেন, জেনে নিন লক্ষণ ও উত্তরণের পথ

গ্রীষ্মে কেমন সুগন্ধি সাবান ব্যবহার করবেন

অতিরিক্ত চা পানের অভ্যাস আপনার ক্ষতি করছে কি, জেনে নিন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

দিনটি কাটুক মায়ের মনের মতো

স্পর্শ কি কষ্ট কমানোর ওষুধ? জেনে নিন, নিঃসঙ্গ জীবনে স্পর্শের বিকল্প কী