হোম > জীবনধারা > ফিচার

স্পর্শ কি কষ্ট কমানোর ওষুধ? জেনে নিন, নিঃসঙ্গ জীবনে স্পর্শের বিকল্প কী

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

জন্মের প্রথম মুহূর্ত থেকে শুরু করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের স্পর্শ আমাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এক অনিবার্য ভূমিকা পালন করে। ছবি: ম্যাগনিফিক

মানুষের এক আদিম ও মৌলিক চাহিদা হলো ‘স্পর্শ’। জন্মের প্রথম মুহূর্ত থেকে শুরু করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের স্পর্শ আমাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে এক অনিবার্য ভূমিকা পালন করে। বর্তমানের যান্ত্রিক ও বিচ্ছিন্ন জীবনে আমরা ক্রমশ এই মানবিক ছোঁয়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছি, যা জন্ম দিচ্ছে ‘টাচ ডিপ্রাইভেশন’ বা স্পর্শহীনতার মতো এক নীরব সংকটের। অনেক কষ্টের মুহূর্তে বা কান্নার মুহূর্তে কেউ জড়িয়ে ধরলে বা কাঁধে হাত রাখলে আমাদের ভালো লাগে। আস্থা পাওয়া যায়। কিন্তু কেন কষ্টের মুহূর্তে কেউ স্পর্শ করলে ভালো লাগে, তা জানেন কি?

বিজ্ঞানের চোখে স্পর্শের গুরুত্ব

প্রবল মানসিক চাপের সময় প্রিয় কারও স্পর্শে আমাদের মস্তিষ্ক দ্রুত শান্ত হয়ে যায়। ছবি: পেক্সেলস

স্পর্শ শুধু একটি অনুভূতি নয়, এটি আমাদের বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। জন্মের পর মায়ের শরীরের উষ্ণ স্পর্শ শিশুর শরীরের তাপমাত্রা, হৃৎস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, যেসব শিশু পর্যাপ্ত স্পর্শ পায় না, তাদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। কারও সঙ্গে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরে অক্সিটোসিন বা ভালোবাসার হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি মানসিক চাপ কমায় এবং মানুষের প্রতি বিশ্বাস ও আত্মিক বন্ধন দৃঢ় করে। বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রবল মানসিক চাপের সময় প্রিয় কারও হাত ধরলে আমাদের মস্তিষ্ক দ্রুত শান্ত হয়ে যায়। এমনকি অপরিচিত কেউ সমব্যথী হয়ে হাত ধরলেও তা কাজ করে।

যখন ছোঁয়ার অভাব অসুখ হয়ে দাঁড়ায়

আমরা যখন দীর্ঘদিন মানবিক সান্নিধ্য বা স্পর্শ থেকে বঞ্চিত থাকি, তখন শরীর ও মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। পর্যাপ্ত স্পর্শের অভাব আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে। ফলে স্পর্শবঞ্চিত মানুষ ছোঁয়াচে রোগে বেশি আক্রান্ত হন। স্পর্শহীনতা সরাসরি বিষণ্নতা, উৎকণ্ঠা ও অতিরিক্ত উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত। এটি মানুষের আচরণ আক্রমণাত্মক ও রুক্ষ করে তুলতে পারে। নিয়মিত আলিঙ্গন বা স্পর্শ রক্তচাপ কমাতে এবং হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এর অভাবে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাজীবনে স্পর্শের প্রভাব

আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, একটি সাধারণ পিঠ চাপড়ানো বা করমর্দন আমাদের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে। যেসব দলের খেলোয়াড়েরা একে অপরকে বেশি হাই-ফাইভ দেন বা আলিঙ্গন করেন, তাঁদের জয়ের হার অন্যদের চেয়ে বেশি। ক্লাসরুমে শিক্ষক যদি কোনো শিক্ষার্থীর কাঁধে হাত রেখে উৎসাহ দেন, তবে সেই শিক্ষার্থীর শেখার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়। এমনকি রেস্টুরেন্টে ওয়েটার যদি খদ্দেরের কাঁধে আলতো করে হাত রেখে কথা বলেন, তবে খদ্দের খুশি হয়ে বেশি বকশিশ দেয় বলে গবেষণায় প্রমাণিত।

নিঃসঙ্গ জীবনে স্পর্শের বিকল্প কী

যাদের জীবনে প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য কম, তারাও কিছু উপায়ে এই অভাব পূরণ করতে পারে। কীভাবে?

ম্যাসাজ থেরাপি

ম্যাসাজ আমাদের শরীরের টিস্যুগুলো উদ্দীপিত করে এবং মানসিক প্রশান্তি আনে। এটি স্পর্শহীনতা কাটানোর চমৎকার পেশাদার উপায়।

পোষা প্রাণী

বিড়াল বা কুকুরকে আদর করা বা কোলে নেওয়া অনেকটা মানুষের স্পর্শের মতোই হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে।

ওয়েটেড ব্ল্যাঙ্কেট

ঘুমানোর সময় কিছুটা ভারী কম্বল ব্যবহার করলে শরীরে যে চাপ পড়ে, তা অনেকটা আলিঙ্গনের অনুভূতি দেয় এবং স্নায়ুতন্ত্র শান্ত করে।

নিজের যত্ন

গরম পানিতে গোসল করা, হারবাল চা পান করা কিংবা নিজেকে নিজে জড়িয়ে ধরা—এগুলো সাময়িকভাবে হলেও আরামদায়ক হতে পারে।

স্পর্শ হলো হৃদয়ের ভাষা, যা শব্দের চেয়ে শক্তিশালী। এটি আমাদের সুরক্ষা দেয়, সাহস জোগায় এবং সুস্থ রাখে। তবে মনে রাখা জরুরি, স্পর্শের ক্ষেত্রে ‘সম্মতি’ বা কনসেন্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন কাউকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরছেন, তখন তা যেন শুধু ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হয়। যান্ত্রিক এই পৃথিবীতে প্রিয়জনকে সময় দিন, হাতে হাত রাখুন; কারণ, একটি উষ্ণ আলিঙ্গন হয়তো আপনার বা আপনার প্রিয়জনের জীবন আরও সুন্দর ও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে পারে।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে, স্টার্স ইনসাইডার

জীবনে আসলে কজন বন্ধু প্রয়োজন?

বিরাট কোহলির মতো সংসার করছেন কি না, বুঝবেন যে ১০টি লক্ষণ দেখে

নারী কেন রাগে, এর কারণ জানেন?

ত্বক ভালো তো মন ভালো

বদলে ফেলার আগে জেনে নিন কুশন কভারের ট্রেন্ড

আজ চিৎকার দিয়েই ঝেড়ে ফেলুন মনের সব কষ্ট

‘সিচুয়েশনশিপ’ বিদায়, ‘ন্যানোশিপে’ ডুবছেন তরুণেরা

বাড়িতেই তৈরি করুন অফিসে খাওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর ৫ স্ন্যাকস

সোশ্যাল মিডিয়ার যেসব বিউটি ট্রেন্ড আমাদের ত্বকের ক্ষতি করছে

গরমে মাথার ত্বকের সুস্থতায়