বিরাট কোহলির মতো সংসার করা! ভাবতেই কেমন লাগে, তাই না? ভাবছেন, খ্যাতি, অর্থ আর জাঁকজমক ছাড়া বিশেষ কী আছে তাঁর সংসার করার মধ্যে? আছে আছে। পপ-কালচারে ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ সঙ্গী বলে একটি বিষয় ইদানীং বেশ ট্রেন্ডে আছে। বিষয়টি আর কিছুই নয়, সঙ্গীর কাছে মানসিকভাবে নিরাপদ বোধ করাই হলো ‘গ্রিন ফ্লাগ’। কোহলি আর আনুশকার সম্পর্ক দেখলেই বুঝবেন, তাঁরা গ্রিন ফ্ল্যাগ সঙ্গী। দুজনই দুজনের কাছে মানসিকভাবে নিরাপদ বোধ করেন। স্ত্রী আনুশকা শর্মার প্রতি বিরাট কোহলির হৃদয়স্পর্শী আচরণ ভক্তদের কাছে তাঁকে দারুণ খেলোয়াড়ের বাইরেও একজন আদর্শ ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ জীবনসঙ্গী হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে।
বিরুশকা দম্পতি একে অপরের প্রতি তাঁদের আবেগঘন আচরণের মাধ্যমে ক্রমাগত সবার মন জয় করে চলেছেন। তাঁদের প্রেম যদি আপনাকেও আপ্লুত করে, তাহলে খেয়াল করে দেখুন তো, আপনার সঙ্গীর মধ্যে এই ১০টি লক্ষণ রয়েছে কি না? যদি থাকে, তাহলে বুঝে নিন, তিনিও কোহলির মতোই ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ লাইফ পার্টনার’।
বিরাট কোহলি এখন পর্যন্ত আদর্শ জীবনসঙ্গী হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। সারা দিনের ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যেও তিনি তাঁর স্ত্রীর জন্মদিন, নিজেদের বিবাহবার্ষিকী এবং এমনকি তাঁদের সন্তানদের বিশেষ দিনগুলোর কথা ভোলেন না। আর এটাই আনুশকাকে আপ্লুত করে।
সন্তান জন্মের পর প্রায় দম্পতির প্রেমে ভাটা পড়ে বলেই আমরা জানি। কিন্তু কোহলি মনে করেন, সন্তানের দায়িত্ব ও কাজের চাপ থাকলেও সঙ্গীর সঙ্গে ভালো সময় কাটানোও জরুরি। বিরাট কোহলি তাঁর নির্দিষ্ট সময়সূচি থেকে বেরিয়ে এসে হঠাৎ স্ত্রীকে নিয়ে নাইট ডেটে যান, সেটা পার্ক বা রাস্তায় হাত ধরে হাঁটা হোক বা পছন্দের কোনো ক্যাফেতে বসে গল্প করা।
একটি সুখী সম্পর্কের গোপন রহস্য হলো সামান্য প্রকাশ্য ভালোবাসা। বিরাটও এই ভাবনার সঙ্গে একমত। যদিও ভালোবাসা পুরোটাই মনের ব্যাপার। তবু প্রিয় মানুষের হাত ধরা, কপালে চুমু খাওয়া কিংবা সঙ্গীর হাত থেকে ভারী জিনিসপত্র নিজের হাতে নিয়ে তাঁকে সহায়তা করার মতো কাজগুলোকে তিনি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। এই ছোট ছোট কাজই প্রতিদিন সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
বিরাট কোহলির কাছে ভালো-মন্দ সব সময় আনুশকা শর্মা অগ্রাধিকার পান। ক্রিকেট মাঠে বিশাল এক ছক্কা হাঁকানো থেকে শুরু করে উইকেট হারানো পর্যন্ত, তাঁর প্রতিটি অর্জন ও ব্যর্থতা তাঁর জীবনসঙ্গীকে একটি ফোন কল ছাড়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
বিরাট কোহলি, যিনি একসময় দাবি করতেন, তিনি ‘পূজা-পাঠের লোক নন’—তিনিই এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছেন। আনুশকাকে বিয়ে করার পর তিনি নিজেকে বদলে ফেলেছেন এবং এখন তাঁরা দুজনে নিয়মিত একসঙ্গে ধর্মীয় স্থানে যান।
বিষয়টা শুধু কারও সঙ্গে থাকা নয়, বরং একসঙ্গে ফিট থাকাও। বিরাট কোহলিকে প্রায়শই তাঁর স্ত্রী আনুশকার সঙ্গে জিমে ঘাম ঝরাতে দেখা যায়। কারণ, তাঁরা একসঙ্গে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বাসী।
যেকোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে অপরকে সমর্থন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। যদিও বিরাট তাঁর স্ত্রীর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশাগত প্রেক্ষাপট থেকে এসেছেন, তবু তিনি নিশ্চিত করেন, যা-ই ঘটুক না কেন, তিনি তাঁর স্ত্রীর অবলম্বন হয়ে থাকবেন।
একটি সম্পর্কের অন্যতম মূলনীতি হলো সঙ্গীর প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা। বিরাট এটা বোঝেন এবং নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যাতে তাঁর স্ত্রীও সম্মানিত অনুভব করেন।
বিষয়টি শুধু একসঙ্গে বুড়ো হওয়া নয়, বরং একে অপরের উন্নতিতে খুশি হওয়ার ব্যাপারও বটে। প্রশংসা করা এমন একটি দক্ষতা, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্জিত হয় এবং বিরাট কোহলি এটি নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করেছেন। তাঁর স্ত্রীর প্রতিটি সাফল্যে এই ক্রিকেটার তা উদ্যাপন ও প্রশংসা করতে ভুল করেন না।
সম্পর্ক যেন একঘেয়ে না হয়ে যায়, তাই সব সময় আনন্দের কোনো না কোনো উপাদান থাকা অপরিহার্য। বিরাট কোহলি তাঁর দুষ্টু-মিষ্টি স্বভাব দিয়ে আনুশকা শর্মার মুখে সব সময় উজ্জ্বল হাসি ফুটিয়ে তোলেন।
সূত্র: পিংক ভিলা