পছন্দের প্রিয় টি-শার্ট বা দামি পোশাকটি ওয়াশিং মেশিন কিংবা ড্রায়ার থেকে বের করার পর দেখলেন, তা সংকুচিত হয়ে এক সাইজ ছোট হয়ে গেছে! এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি কমবেশি অনেককে হতে হয়। কাপড়ের প্রকৃতি না বুঝে হঠাৎ ভুল তাপমাত্রায় ধোয়া, অতিরিক্ত তাপে শুকানো কিংবা কড়া রোদে দেওয়ার কারণে কাপড়ের সুতার আঁশগুলো দুমড়ে মুচড়ে সংকুচিত হয়ে যায়।
প্রিয় পোশাকটি পরা যাচ্ছে না বলে স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ হয়ে যায়। তবে শখের পোষাক পুরোপুরি ফেলে দেওয়ার বা কাউকে দিয়ে দেওয়ার আগে একটু থামুন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও যত্ন নিলে সংকুচিত পোশাক আবার আগের মাপে ফিরিয়ে আনা মোটেও অসম্ভব নয়। কী করতে হবে তাহলে? জেনে নিন।
পোশাক ছোট হয়ে গেছে বুঝতে পেরে অনেকে আতঙ্কিত হয়ে ভেজা অবস্থাতেই তা জোরে দুহাত দিয়ে টানাটানি শুরু করেন। এটি সবচেয়ে বড় ভুল। এভাবে যত্রতত্র বল প্রয়োগ করলে সুতার বুনন স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে পোশাকটির আকৃতি অদ্ভুত দেখাবে। পেশাদার লন্ড্রিতে সিল্ক শাইন বা বিশেষ রিন্স প্রোডাক্ট ব্যবহার করা হয়। তাই দামি সিল্ক বা সূক্ষ্ম কাপড়ের ক্ষেত্রে ঘরে বসে অগোছালো চেষ্টা না করে অভিজ্ঞ ড্রাই ক্লিনারের হাতে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
সব ধরনের সুতা সমপরিমাণে আগের মাপে ফেরানো যায় না। তাই পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কাপড়ের লেবেল দেখে ফ্যাব্রিকসের ধরন বোঝা জরুরি:
» সুতি ও সিল্ক: সুতি ও রেশমি কাপড়ের সুতা তুলনামূলক নমনীয়। সুতির পোশাকে ১ থেকে ২ ইঞ্চি সংকোচন খুব সহজে টেনে আগের মাপে আনা যায়।
» পশম বা উল: ভেড়ার লোম বা পশম-জাতীয় প্রাণিজ তন্তুর পোশাক বেশি ছোট হলে তা পুরোপুরি আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনা বেশ কঠিন। উলের প্রতিটি আঁশ তাপে জট পাকিয়ে যায়। পেশাদারেরা এতে বিশেষ কন্ডিশনার দিয়ে সুতার ভেতরের প্রাকৃতিক ল্যানোলিন ফিরিয়ে এনে সোয়েটার বোর্ডে পিন দিয়ে আটকে নির্দিষ্ট আকার দেন।
ঘরের কাপড় আগের মাপে ফেরাতে বড় হাতিয়ার হলো স্টিম ও হালকা স্ট্রেচিং। এ জন্য সংকুচিত পোশাকে পর্যাপ্ত গরম ভাপ বা স্টিম আয়ন প্রয়োগ করুন, যাতে সুতার আঁশগুলো শিথিল হয়ে আসে। এরপর পোশাকটি একটি সমতল টেবিলে ছড়িয়ে ধরে খুব আলতো হাতে চারদিকে টেনে স্বাভাবিক মাপে আনুন।
কাঙ্ক্ষিত মাপে ধরে রাখার জন্য টেবিলের ওপর পিন দিয়ে বা কোনো ভারী জিনিস দিয়ে আটকে রাখুন যতক্ষণ না তা পুরোপুরি শুকিয়ে যায়।
ঘরে সাধারণ উপায়ে কুসুম গরম পানিতে এক ক্যাপ বেবি শ্যাম্পু বা ফ্যাব্রিকস কন্ডিশনার মিশিয়ে নিন। এতে ছোট হয়ে যাওয়া পোশাকটি ২০ থেকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। শ্যাম্পু বা ফ্যাব্রিকস কন্ডিশনার সুতার সূক্ষ্ম আঁশ পিচ্ছিল ও নরম করে তোলে। এরপর পানি চিপে না নিয়ে একটি তোয়ালের ভেতর জড়িয়ে বাড়তি পানি শুষে নিন। ভেজা অবস্থাতে খুব সাবধানে হাতে টেনে সঠিক আকার দিন।
প্রচণ্ড তাপে কাপড়ের আঁশ যদি এতটাই শক্ত হয়ে যায় যে একাধিকবার চেষ্টার পরেও কোনো পরিবর্তন বা নমনীয়তা না আসে, তাহলে বুঝতে হবে, কাপড়টি তার স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা চিরতরে হারিয়ে ফেলেছে। এ ক্ষেত্রে জোরজবরদস্তি না করে বিষয়টি মেনে নেওয়া ভালো। এরপর পোশাক ছোট হয়ে যাওয়ার বিড়ম্বনা থেকে বাঁচতে সব সময় কাপড়ের সঙ্গে থাকা কেয়ার লেবেলের নির্দেশনা দেখে ড্রাই ক্লিন বা ওয়াশ করুন।
সূত্র: ভোগ