হোম > জীবনধারা > ফ্যাশন

সূর্যাস্তের রঙে রাঙানো ছিল বিশ্বকাপ, রোমানীয় তরুণীর তৈরি পোশাকে শাকিরার শো

ফিচার ডেস্ক

এবারের মতো শেষ হয়ে গেছে ফিফা বিশ্বকাপ। কিন্তু এর রেশ থেকে গেছে এখনো। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল ম্যাচটির হাফ-টাইম শো ছিল ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হাফ-টাইম শো। ফাইনাল ম্যাচটি শুধু মাঠের খেলার জন্যই নয়, বিশ্বমঞ্চে সংগীত, ফ্যাশন ও নাচের এক অপূর্ব মেলবন্ধনের জন্যও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। হাফ-টাইম শোতে কোটি কোটি দর্শককে মাতিয়েছেন লাতিন সুরের সম্রাজ্ঞী শাকিরা। নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দ্যুতিময় পরিবেশনায় বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। শুধু কি সাকিরাই ছিলেন মঞ্চে? না, ছিলেন তাঁর ব্যাকআপ ড্যান্সারের দল। তাই আলোচনায় এসেছে তাঁদের পোশাকও। আর এই জাঁকালো আয়োজনের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন ৩১ বছর বয়সী রোমানীয় ডিজাইনার রাফায়েলা পেস্ত্রিছু।

বিশ্বমঞ্চের এই বিরাট আয়োজন ছিল রাফায়েলা পেস্ত্রিছুর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ছবি: সংগৃহীত

শাকিরার ড্যান্সার দলের জন্য ৪০টি পোশাক বা লুক ডিজাইন করেছিলেন রাফায়েলা। এই রোমানীয় তরুণী সেন্ট্রাল সেন্ট মার্টিন্স কলেজ থেকে লেখাপড়া শেষ করেছেন। এর আগে তিনি ক্রিস্টিনা আগিলেরা, কাইলি মিনোগ এবং চার্লি এক্সসিএক্সের মতো তারকাদের কাজ করেছেন। তবে বিশ্বমঞ্চের এই বিরাট আয়োজন ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

এক সপ্তাহের লড়াই

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এল রোমানিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাফায়েলা জানান, শাকিরার মূল স্টাইলিস্টের মাধ্যমে তিনি এই কাজের প্রস্তাব পান। কিন্তু সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সময়। মাত্র এক সপ্তাহে ড্যান্সারদের ৪০টি নতুন লুক তৈরি করা প্রায় অসম্ভব কাজ ছিল। এই লক্ষ্যপূরণে রাফায়েলা তাঁর নিজস্ব স্টুডিও টিমের পাশাপাশি রোমানিয়ার স্লাতিনার একটি পারিবারিক পোশাক কারখানা এবং নিজের পরিবারের সদস্যদেরও যুক্ত করেন। একটি যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে এত কম সময়ে কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

পোশাকের নকশায় ব্যবহার করা হয়েছিল ব্র্যান্ডের অন্যতম সিগনেচার ট্রম্প ল্য ওইল প্রিন্ট। সঙ্গে ছিল লেয়ারিং, ড্রাপিং এবং হাত দিয়ে করা কারুকাজ। ছবি: সংগৃহীত

পোশাকের বিশেষ নকশা ও রঙের পেছনের রহস্য

শাকিরার এই পরিবেশনায় মূল ভিজুয়াল ধারণার ভিত্তি ছিল সূর্যাস্ত বা সানসেট প্যালেটের উষ্ণ আভা। রাফায়েলা পোশাকগুলোতে তাঁর সিগনেচার স্টাইল বজায় রেখেছিলেন। এতে ব্যবহার করা হয়েছিল ব্র্যান্ডের অন্যতম সিগনেচার ট্রোম্প ল্য ওইল প্রিন্ট। সঙ্গে ছিল লেয়ারিং, ড্রাপিং এবং হাত দিয়ে করা কারুকাজ। শুধু তা-ই নয়, এখানে নাচের সঙ্গে মানানসই নকশা করা হয়েছে। নারী ড্যান্সারদের পোশাকে মুক্তার দানা ও ফ্রিঞ্জ ব্যবহার করা হয়। এগুলো ড্যান্সারদের নিখুঁত কোরিওগ্রাফি ও বডি মুভমেন্টের সঙ্গে কেঁপে ওঠে। পুরো বিষয়টি পোশাকে আলাদা গতিশীলতার জন্ম দিয়েছিল। পোশাকটিতে ছিল হলুদ রঙের ছোঁয়া। ভিজুয়াল কনসেপ্ট অনুযায়ী শাকিরার এই পুরো পারফরম্যান্সের প্রধান ভিত্তি রাখা হয়েছিল হলুদ রং। রাফায়েলা জানান, এই হলুদ রং নিজেদের ব্র্যান্ডের পরিচয়ের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করাই ছিল সবচেয়ে বড় টেকনিক্যাল চ্যালেঞ্জ।

শাকিরার এই পরিবেশনায় মূল ভিজুয়াল ধারণার ভিত্তি ছিল সূর্যাস্ত বা সানসেট প্যালেটের উষ্ণ আভা। ছবি: সংগৃহীত

শাকিরার পোশাকের কারিগর

শাকিরার নিজস্ব বডি স্যুটটি ডিজাইন করেছিলেন রবার্তো কাভালির ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ফাউস্তো পুগলিসি। পোশাকটি মায়ামি বিচ ও মেক্সিকো সিটির সূর্যাস্তের গাঢ় গোলাপি, সোনালি হলুদ ও কমলা রঙে অনুপ্রাণিত। এটি দুই লাখের বেশি সোয়ারোভস্কি ক্রিস্টাল দিয়ে তৈরি। এটি তৈরি করতে ২ সপ্তাহে ১২০ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। এর সঙ্গে পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে ড্যান্সারদের জন্যও একটি সানসেট কালার প্যালেট ধরে রাখা হয়। সেখানে নারী ড্যান্সাররা ক্রস-ক্রস ক্রপ টপ ও স্কার্ট এবং পুরুষেরা স্লিভলেস টি-শার্টের সঙ্গে ঢিলেঢালা ট্রাউজার্স পরেছিলেন।

সব মিলিয়ে, বিশ্বমঞ্চে ফুটবল খেলার উন্মাদনার মাঝে ফ্যাশনের এই অনন্য প্রদর্শনী শাকিরার পরিবেশনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। তার পেছনে উজ্জ্বল হয়ে রইল এক রোমানীয় নারী ও তাঁর দলের অক্লান্ত পরিশ্রম।

সূত্র: এল ম্যাগাজিন, রোমানিয়া ইনসাইডার

বর্ষায় শাড়িতে আরাম ও আভিজাত্য

ফ্যাশনে নতুন মোড়: বডি পজিটিভিটি

আর্জেন্টিনা ভ্রমণে সঙ্গে নিন নিখুঁতভাবে তৈরি ও পরিশীলিত রুচির পোশাক

চলে নীল শাড়ী নিঙ্গাড়ি নিঙ্গাড়ি

ফ্যাশন ফিল্ডেও খেলা জমুক

বর্ষায় যেমন পোশাক পরা চাই

ফ্যাশনের দেশে ফুটবল

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বদলে ফেলুন চুলের ছাঁট

কানের লালগালিচায় গোলাপি আভা ছড়াতে যেভাবে সেজেছিলেন আলিয়া ভাট

যা দেখে কিনবেন সামার ফ্রক