হোম > জীবনধারা > ফ্যাশন

শরতের শাড়িতে থাকুক আরামের পরশ

বিভাবরী রায়

মডেল: অদিতি শাড়ি: গোধূলীয়া। ছবি: হাসান রাজা

বাঙালি নারীর প্রিয় পোশাকের তালিকায় চিরকালই প্রথম দিকে রয়েছে শাড়ি। স্নিগ্ধ সাবেকিয়ানা বলুন বা ট্রেন্ডি স্টাইল; প্রতিটি প্রতিচ্ছবিতেই শাড়ির মায়া কাটানো মুশকিল। রিলস মেকিং বা প্রোফাইল ফটো বদলানোর এই যুগে ছয়টি ঋতু যেন ভিন্ন ভিন্ন শাড়ির প্রতিই মায়া তৈরি করে। হ্যাঁ, সত্য়ি, একেকটি ঋতু আসে, একেক ধরনের উদ্‌যাপন ও আয়োজন চলে আর তাতে প্রয়োজন পড়ে পাটভাঙা নতুন শাড়ির। এই শরতেই কাশবনে ঘুরে বেড়ানোর পরিকল্পনা, এই শরতেই ছাদে শুয়ে আকাশ দেখার শখ পূরণ আর এই শরতেই পূজা। ফলে শরতেও নারীর পোশাকে শাড়ির আবেদন থাকবেই। তবে এ ঋতুতে আমাদের দেশের যে আবহাওয়া, তাতে সাধারণত তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরম থাকে। এই ঋতুতে পরার জন্য শাড়ি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ‘আরাম’ ব্যাপারটা বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শরতের গরমেও শাড়িতে থাকতে পারেন সাবলীল। কী করে থাকবেন? সেই গল্প এখানে।

সাধারণেই খুঁজে নিন গ্ল্যামারাস লুক

শরতের আবহাওয়া খানিকটা গরম থাকে। কখনো চকচকে রোদ, কখনো কিছু সময়ের জন্য বৃষ্টি নামে এ সময়। তবে গরম ছেড়ে যাবে না, এ কথা জানা। তাই শাড়ি পরার ক্ষেত্রে নজর দেওয়া চাই কাপড়ের উপাদান বা ম্যাটেরিয়ালের দিকে। এই সময়ে এমন কাপড় বেছে নেওয়া উচিত, যা বাতাস চলাচল করতে দেয় এবং শরীরের ঘাম শুষে নেয়।

রঙ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী সৌমিক দাস বলেন, ‘যাঁরা প্রায়ই শাড়ি পরেন, তাঁরা শরতে চিরন্তন বন্ধু হিসেবে সুতি শাড়ি রাখতে পারেন। যেকোনো সুতি শাড়ি ওজনে হালকা এবং পরতে আরামদায়ক। সুতি ছাড়া বর্তমান সময়ে লিলেন শাড়ি তরুণীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ ধরনের শাড়ি পরার পর শরীর বেশ ঠান্ডা থাকে। এ ছাড়া ঘেমে গেলেও দ্রুত শুকিয়ে যায়। এককথায় এ ধরনের শাড়ি পরলে বেশ চনমনে থাকা যাবে শরতের সকাল, বিকেল কিংবা সন্ধ্যায়।’

রংই বলবে শান্তির কথা

শরতের উষ্ণ এই আবহাওয়ায় শাড়ির ধরনের পাশাপাশি রং নির্বাচন করা জরুরি। রঙের নির্বাচন শুধু চোখের শান্তিই দেয় না, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। গাঢ় রং রোদ ও তাপ বেশি শোষণ করে। তাই এই সময়ে হালকা রং বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

হালকা বা প্যাস্টেল শেড: অফ হোয়াইট, হালকা গোলাপি, আকাশি নীল, মিন্ট গ্রিন অথবা লেমন কালার এই সময়ের জন্য আদর্শ।

সাদা বা নো কালার: সাদার কোনো বিকল্প নেই। একটি ধবধবে সাদা সুতি বা জামদানি শাড়ি গরমের দিনে যেমন স্নিগ্ধ দেখায়, তেমনই আরাম দেয়।

মডেল: অদিতি শাড়ি: গোধূলীয়া। ছবি: হাসান রাজা

নকশায় মিনিমালিজম ও স্মার্ট লুক

ভারী কাজ, জড়ি বা অতিরিক্ত সিকুইনের শাড়ি গরমে ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই নকশার ক্ষেত্রেও সিম্পল বা মিনিমালিস্টিক হওয়া উচিত।

ব্লক ও বাটিক প্রিন্ট: হালকা রঙের সুতি শাড়িতে সুন্দর ব্লক বা বাটিকের কাজ এই সময়ে ট্রেন্ডি আর আরামদায়ক।

হালকা এমব্রয়ডারি: শাড়ির জমিন যদি একরঙা হয়, তবে পাড়ে হালকা সুতার কাজ বা চিকন পাড়ের শাড়ি বেছে নিতে পারেন।

উৎসবে-আয়োজনে

শরৎকালে পূজা তো রয়েছেই, এ ছাড়া যেকোনো আয়োজনে যদি উপস্থিত হতে হয়, তখন পিচ, গোলাপি, ম্যাজেন্টা, এমারেল্ড গ্রিন, সাদা ইত্যাদি রঙের জামদানি, সানন্দা কাতান, বেগমপুরি সুতি বা কোটা শাড়ি পরা যেতে পারে। অনলাইন উদ্যোগ গোধূলীয়া পূজা সামনে রেখে শরতে পরার উপযোগী কিছু শাড়ির নকশা নিয়ে এসেছে। গোধূলীয়ার স্বত্বাধিকারী নাজমুন নাহার শিউলি বলেন, ‘শরৎ মানেই তো উৎসব! পূজা সামনে রেখে সুতি কোটা শাড়ির নকশা করা হয়েছে। যেখানে পাড়জুড়ে রয়েছে গামছা প্যাচওয়ার্ক। এর পাশাপাশি হাতের কাজের পাড় বসানো প্যাচওয়ার্কের শাড়ি নকশার কাজও চলছে শরতের কালেকশনে।’ তিনি আরও জানান, শাড়িগুলো নকশা করার সময় আরামের কথাটিই বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। কারণ, শরতের উৎসব গরমের মধ্য়েই উদ্‌যাপন করা হয়। ফলে কাজ করতে এবং উপভোগ করতে যেন কোনো অসুবিধা না হয়, আবার পোশাকে উৎসবের আমেজটাও থাকে; সে জন্যই সুতি আর প্যাচওয়ার্কের কম্বিনেশন বেছে নেওয়া হয়েছে।

মডেল: অদিতি শাড়ি: গোধূলীয়া। ছবি: হাসান রাজা

ব্লাউজের ছাঁটে আধুনিকতা ও স্বস্তি

শাড়ির অর্ধেক সৌন্দর্য নির্ভর করে ব্লাউজের ওপর। গরমে ফুল স্লিভ বা ভারী নকশার ব্লাউজ এড়িয়ে চলাই ভালো। স্লিভলেস ব্লাউজে স্বচ্ছন্দবোধ যাঁরা করেন, তাঁরা এই ঋতুতে শাড়ির সঙ্গে পরার জন্য বিভিন্ন নকশার এবং কাটিংয়ের স্লিভলেস ব্লাউজ পরতে পারেন। এ ছাড়া থ্রি কোয়ার্টার ও ছোট হাতার ব্লাউজ আরাম দেবে। ব্লাউজের কাপড়টিও যেন সুতি, লিলেন বা আরামদায়ক কাপড়ের হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

সাজ ও গয়না

শরতে প্রচুর ঘাম হয়, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই সারা দিন যেন সতেজ আর ঝরঝরে থাকা যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা চাই। রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি বলেন, ‘শরতে ক্রিম ব্যবহার না করে জেল-বেজড ময়শ্চারাইজার বা সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ত্বকের জন্য ভালো। এতে চিটচিটে ভাব অনেকটাই এড়িয়ে চলা সম্ভব হবে।’