হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

সন্তান লালনপালনের ক্লান্তি দূর করার সহজ উপায় জেনে নিন

ফিচার ডেস্ক  

ছবি: সংগৃহীত

সন্তান লালনপালন করা মোটেও সহজ কাজ নয়। দিনরাত শিশুর যত্ন নিতে গিয়ে বাবা-মায়েরা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের এই মানসিক চাপ থেকে তৈরি হয় প্যারেন্টাল বার্ন আউট। এটি এখন আমাদের দেশে সাধারণ সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। তাই জেনে নিতে হবে, সন্তান লালনপালনের ক্লান্তি দূর করার সহজ উপায়গুলো কী হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, এই সমস্যা সাময়িক।

সন্তান লালনপালন একটি দীর্ঘ যাত্রা। নিজেকে সুস্থ রাখলেই আপনার সন্তানকে সুন্দর ভবিষ্যৎ দিতে পারবেন। সঠিক পদক্ষেপে আপনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

প্যারেন্টাল বার্ন আউট কী

দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে চরম ক্লান্তি তৈরি হয়। একেই বার্ন আউট বলে। কর্মক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা গেলেও এখন বাবা-মায়েরাও এতে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্যারেন্টাল বার্ন আউটের কারণে তাঁরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তাঁদের আর নতুন করে কিছু করার শক্তি থাকে না।

লক্ষণগুলো চিনে নিন—

সব সময় চরম ক্লান্তি অনুভব করা।

মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা বা পেশিতে ব্যথা হওয়া।

অসহায় বোধ করা এবং নিজের ওপর আত্মবিশ্বাসের অভাব।

কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলা।

খাবার বা ঘুমের অভ্যাসে বড় পরিবর্তন আসা।

মানুষের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া।

সন্তান বা অন্য বড়দের সঙ্গে খিটখিটে মেজাজ দেখানো।

মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

বার্ন আউট আপনার শরীর ও মনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এতে মনোযোগ কমে যায় এবং ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। একে ব্রেন ফগ বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে বিষণ্নতা বা একাকিত্ব দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিনের ঘুমের অভাব থেকে হৃদ্‌রোগ বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। এমনকি এটি দাম্পত্যজীবনে অশান্তি ও সন্তানের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে পারে।

সংগৃহীত

প্যারেন্টাল বার্ন আউট কাটানোর উপায়

জীবনসঙ্গীর সঙ্গে কথা বলুন

আপনার ক্লান্তি বা কষ্টের কথা সঙ্গীর সঙ্গে শেয়ার করুন। তাঁকে বুঝিয়ে বলুন আপনার কী প্রয়োজন। পরিষ্কার করে বললে সঙ্গী আপনাকে সাহায্য করতে পারবে।

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

শিশুদের যত্ন নিতে গিয়ে ঘুম কম হওয়া স্বাভাবিক। তাই সুযোগ পেলেই ২০ মিনিট সময় ঘুমিয়ে নিন। একে পাওয়ার ন্যাপ বলে। এটি মানসিক চাপ কমায়। কাজের ফাঁকে চা বা কফি নিয়ে কয়েক মিনিট একা বসুন। শিশুর সঙ্গে কার্টুন দেখেও মন হালকা করতে পারেন।

পুষ্টিকর খাবার খাওয়া

ক্লান্তি দূর করতে মিষ্টি বা ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন। এগুলো সাময়িক শক্তি দিলেও পরে শরীর আরও ক্লান্ত করে। এর বদলে প্রোটিন, শাকসবজি ও ফলমূল বেশি করে খান।

প্রতিদিন ব্যায়াম করুন

শরীরচর্চা করলে মনে ভালো লাগার হরমোন তৈরি হয়। জিমে যেতে না পারলেও দিনে অন্তত ১০ মিনিট হাঁটুন। এটি আপনার মানসিক চাপ কমিয়ে শক্তি বাড়াবে।

সাহায্যের নেটওয়ার্ক তৈরি করুন

একা সব সামলানোর চেষ্টা করবেন না। পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়দের সাহায্য নিন। প্রয়োজনে নির্ভরযোগ্য সাহায্যকারী বা ন্যানি রাখুন। সমমনা অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলুন। এতে আপনার মন হালকা হবে।

নিজের প্রতি সদয় হোন

আপনি একজন মানুষ, রোবট নন। আপনার ভুল হতে পারে এবং আপনি ক্লান্ত হতে পারেন। নিজেকে সুপার মাদার বা সুপার ফাদার ভাবার দরকার নেই। নিজের জন্য প্রতিদিন অন্তত দুই মিনিট সময় রাখুন। এই সময়টাতে শুধু নিজের শ্বাসপ্রশ্বাসের দিকে নজর দিন।

প্রতিরোধে যা করবেন—

বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখুন।

সন্তান বড় হলে তাকে ছোটখাটো ঘরের কাজে যুক্ত করুন।

নিজের যত্ন নিতে গিয়ে অপরাধবোধে ভুগবেন না। নিজের যত্ন নেওয়া মানে সন্তানকে অবহেলা করা নয়।

অবস্থা বেশি খারাপ মনে হলে বিশেষজ্ঞ বা থেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।

সূত্র: ওয়েব মেড, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ

আজকের রাশিফল: শর্টকাট রাস্তা গর্তে ফেলবে, আর্থিক যোগ শুভ

শিশুর হাতে স্মার্টফোন, আদর নাকি বিপদ

অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া কমানোর ৫ উপায় জেনে নিন

আজকের রাশিফল: যাকে বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবছেন, সে স্ক্রিনশট নেওয়ার অপেক্ষায় আছে

ঈর্ষা: সম্পর্কের এক অদৃশ্য দেয়াল এবং তা কাটিয়ে ওঠার উপায়

তপ্ত গরমে লম্বা চুলের সুরক্ষা ও স্টাইলের গাইডলাইন

নিজেকে ভালোবাসার এই ১০ সূত্র জানেন তো

আজকের রাশিফল: মাল্টি-টাস্কিং করতে গিয়ে মাল্টি-গোলমাল বাধাবেন

প্রত্যাখ্যানে ব্যথিত, নাকি আপনি ‘আরএসডি’র শিকার

ভালো ঘুমের জন্য যা খাবেন