হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

কোন পানীয় কখন পান করলে ঝরবে বাড়তি মেদ

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

কোন পানীয় কখন পান করছেন, তার ওপরও নির্ভর করে এর কার্যকারিতা। প্রতীকী ছবি এআই দিয়ে তৈরি

বাড়তি মেদ ঝরাতে বলিউড তারকা মালাইকা অরোরা কয়েক ধরনের পানীয় পান করেন। জোয়ান, জিরা ও মৌরি ভেজানো পানি তো রয়েছেই; ডাবের পানি, লেবু-মধু পানি এবং এবিসি জুসও থাকে তাঁর রোজকার রুটিনে। এগুলো ছাড়াও কিন্তু অনেক ধরনের পানীয় রয়েছে, যেগুলো নিয়মিত পান করলে বাড়তি মেদ ঝরে যায়। তবে কোন পানীয় কখন পান করছেন, তার ওপরও নির্ভর করে এর কার্যকারিতা। বাড়তি ওজন কমাতে কোন কোন পানীয় কোন সময়ে পান করা অত্যন্ত কার্যকরী, তা একবার জেনে নিন।

মেটাবলিজম বাড়াতে সকালে খালি পেটে যেসব পানীয় পান করবেন

লেবু ও মধু মেশানো কুসুম গরম পানি

সকালে খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অর্ধেক লেবুর রস ও এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে তা শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন বের করে দেয়। এই পানীয় হজম ক্ষমতা ভালো রাখতে সহায়তা করে। ফলে শরীরও ঝরঝরে থাকে। শরীরে জমা চর্বি ধীরে ধীরে দূর করতেও এই পানীয়ের ভূমিকা অনেক।

সকালে খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে অর্ধেক লেবুর রস ও এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে তা শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন বের করে দেয়। ছবি: পেক্সেলস

মেথি বা জিরা ভেজানো পানি

এক চা-চামচ মেথি বা জিরা এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন সারা রাত। সকালে সেই পানি ফুটিয়ে ছেঁকে পান করলে মেদ দ্রুত কমে।

আপেল সিডার ভিনেগার মেশানো পানি

এক গ্লাস কুসুম গরম পানি ১ থেকে ২ চা-চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে সকালে পান করলে তা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং চর্বি গলাতে সাহায্য করে। তবে একটানা দীর্ঘদিন আপেল সিডার ভিনেগার মেশানো পানি পান করা ক্ষতিকর। তাতে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে এবং শরীরের অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে পানের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

দিনে ২ থেকে ৩ বার খাবারের মাঝে বা পরে যা পান করতে পারেন

দিনে ২ থেকে ৩ বার চিনি ছাড়া গ্রিন টি পানের অভ্যাস করুন। ছবি: পেক্সেলস

গ্রিন টি

দিনে ২ থেকে ৩ বার চিনি ছাড়া গ্রিন টি পানের অভ্যাস করুন। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মেটাবলিজম বাড়িয়ে চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে। ভারী খাবার খাওয়ার ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর এটি পান করা সবচেয়ে ভালো।

আদা ও পুদিনাপাতার চা

আদা হজমক্ষমতা বাড়ায় এবং পুদিনাপাতা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এটি দুপুরের খাবারের পর বা বিকেলে পান করতে পারেন।

ব্যায়ামের আগে ও পরে

ব্যায়ামের ৩০ মিনিট আগে ব্ল্যাক কফি পান করুন

চিনি ও দুধ ছাড়া ব্ল্যাক কফি ব্যায়াম করার আগে পান করলে তা শরীরের শক্তির মাত্রা বাড়ায় এবং ব্যায়ামের সময় বেশি ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে।

ব্যায়ামের পর ডাবের পানি পান করুন

ব্যায়ামের পর রিহাইড্রেটেড হতে ডাবের পানি পান চমৎকার কাজ করে। এটি কম ক্যালরিযুক্ত এবং শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে।

চর্বি গলানোর প্রক্রিয়া সচল রাখতে রাতে ঘুমানোর আগে

দারুচিনি ফোটানো পানি পান

ঘুমানোর আধা ঘণ্টা আগে দারুচিনি ফোটানো পানি পান করলে তা রাতে ঘুমানোর সময়ও শরীরের মেটাবলিজম সচল রাখে।

কাঁচা হলুদবাটা মেশানো দুধ পান

এক গ্লাস সর তোলা গরম দুধে এক চিমটি কাঁচা হলুদবাটা মিশিয়ে পান করলে তা ভালো ঘুমের পাশাপাশি শরীরের মেদ ঝরানো ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

সারা দিন যা পান করতে হবে

ওজন কমানোর সহজ উপায় হলো, সারা দিন ধরে পর্যাপ্ত পানি পান করা। প্রতিবার ভারী খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি পান করলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। তবে একেকজনের শরীরে পানির চাহিদা একেক রকম। এর কোনো নির্দিষ্ট হিসাব বলা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে নির্দেশনা মেনে পানি পান করা উচিত।

সূত্র: হেলথলাইন, ওয়েবএমডিও অন্যান্য