হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

শীত আসার আগেই ত্বকে যে পরিবর্তনগুলো খেয়াল করবেন

ফিচার ডেস্ক  

শীতের জন্য ত্বকযত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আর্দ্রতা ধরে রাখা। মডেল: জ্য়োতি। ছবি: মঞ্জু আলম

স্যান্ডেলের জায়গায় যেমন ধীরে ধীরে বুট আসে, টি-শার্টের বদলে আলমারি থেকে বের হয় সোয়েটার, তেমনি ঋতুবদলের সঙ্গে বদলানো উচিত ত্বকের যত্ন। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া থেকে যখন ধীরে ধীরে ঠান্ডা এবং শুষ্ক আবহাওয়ার দিকে যেতে থাকে প্রকৃতি, তখন ত্বকেও তার প্রভাব পড়ে। বাইরে ঠান্ডা বাতাস আর ঘরের ভেতরের শুষ্ক পরিবেশ—দুইয়ের মিলিত প্রভাবে ত্বক হারাতে পারে স্বাভাবিক আর্দ্রতা। ফলে ত্বক হয়ে উঠতে পারে শুষ্ক, টানটান ও সংবেদনশীল। তবে শীত এলেই পুরো স্কিন কেয়ার রুটিন বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই; বরং ত্বক যে সংকেতগুলো দিচ্ছে, সেগুলো বুঝে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন আনলেই শুষ্কতাও অনেকটা কমানো সম্ভব।

শীতের আগে ত্বকে যে পরিবর্তনগুলো দেখা যায়

মুখ ধোয়ার কিছুক্ষণ পরই যদি ত্বক টানটান লাগে, সেটি হতে পারে শুষ্কতার প্রাথমিক লক্ষণ। প্রতিদিনের ময়শ্চারাইজার আগের মতো দীর্ঘক্ষণ ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে না পারলেও রুটিনে পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। মেকআপ করার পর যদি ফাউন্ডেশন ত্বকের শুষ্ক অংশে আটকে যায় বা অসমান দেখায়, নাক, গাল, কপাল কিংবা মুখের চারপাশে সূক্ষ্ম খসখসে ভাব দেখা দেয়, তাহলেও ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এমনকি আগে যে স্কিন কেয়ার পণ্য ব্যবহার করে আরাম পাওয়া যেত, সেগুলো লাগানোর পর হঠাৎ জ্বালা অনুভূত হলেও ত্বকের প্রতি একটু বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

কেন এমন হয়

শীতের সময় বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। এর সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস এবং ঘরের কৃত্রিম উষ্ণতার কারণে ত্বকের ওপরের স্তর থেকে পানি হারানোর প্রবণতা বাড়ে। ফলে ত্বক স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি শুষ্ক ও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। তবে শুধু আবহাওয়াই দায়ী নয়। শীতে অনেকে দীর্ঘ সময় ধরে গরম পানিতে গোসল করেন। অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে দিতে পারে। একইভাবে খুব বেশি ফোম তৈরি করে এমন ক্লিনজার কিংবা ঘন ঘন স্ক্রাব ও এক্সফোলিয়েশন করলেও ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়।

শীতের আগে স্কিন কেয়ারে যে বদল আনবেন

শীতের জন্য ত্বকযত্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আর্দ্রতা ধরে রাখা। ত্বক ধোয়ার পর খুব টানটান অনুভূত হলে হালকা ক্লিনজার বেছে নেওয়া যেতে পারে। ক্লিনজিংয়ের পর হাইড্রেটিং সেরাম ব্যবহার করুন। গ্লিসারিন কিংবা হায়ালুরনিক অ্যাসিডের মতো উপাদান ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। মুখ সামান্য ভেজা থাকা অবস্থায় সেরাম ব্যবহার করলে ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে তা সহায়ক। এরপর প্রয়োজন একটি ভালো ময়শ্চারাইজার। শীতে ত্বক বেশি শুষ্ক হয়ে গেলে সেরামের ওপর ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করে আর্দ্রতা ধরে রাখার একটি স্তর তৈরি করা যেতে পারে। সেরামাইডযুক্ত ময়শ্চারাইজার ত্বকের প্রাকৃতিক প্রতিরোধী স্তরের জন্য ভালো হতে পারে।

মুখ ধোয়ার কিছুক্ষণ পরই যদি ত্বক টানটান লাগে, সেটি হতে পারে শুষ্কতার প্রাথমিক লক্ষণ। মডেল: জ্য়োতি। ছবি: মঞ্জু আলম

চোখের চারপাশ ও ঠোঁটেও নজর দিন

শীতের শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাব শুধু মুখত্বকে পড়ে না, চোখের চারপাশের তুলনামূলক পাতলা ত্বকও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী হালকা হাইড্রেটিং আই ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। একইভাবে, ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং ফেটে যাওয়া শীতের পরিচিত সমস্যা। তাই ঠোঁটের যত্নেও নিয়মিত ময়শ্চারাইজিং গুরুত্বপূর্ণ।

শীতেও সানস্ক্রিন বাদ নয়

অনেকে মনে করেন, শীত বা মেঘলা দিনে সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই। ধারণাটি ঠিক নয়। অতিবেগুনি রশ্মি সারা বছর থাকে। তাই শীতের স্কিন কেয়ার রুটিনেও সানস্ক্রিন রাখুন। বিশেষ করে দিনের বেলা বাইরে বের হলে ত্বক সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

যে উপাদানগুলো কাজে আসতে পারে

শীতের সময় স্কিন কেয়ার পণ্য বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সেরামাইড, স্কুয়ালেন, গ্লিসারিন, হায়ালুরনিক অ্যাসিড, নিয়াসিনামাইড ও প্যানথেনলের মতো উপাদান খুঁজে দেখুন। এগুলোর কিছু ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং কিছু ত্বকের প্রাকৃতিক প্রতিরোধী স্তরকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।

সূত্র: বুটস